গরু কিছু খাচ্ছে না? জেনে নিন চিকিৎসকের পরামর্শ

চট্টগ্রাম সাগরীকা হাটে ট্রাকে আসছে নানা জাতের গরু। ছবি: রনি দে, আগামীর সময়
‘হাট থেকে আনার পর আমার গরু কিছু খাচ্ছে না। কী করব— পরামর্শ চাই’; কিংবা ‘আমার গরু বসতে পারছে না, সারারাত ঘুমাতে পারেনি। কী করব— বুঝছি না।’ ফেসবুকে ভাসছে এমন সব প্রশ্ন। নগরীর মানুষের বড় অংশই পশু লালন-পালনে অনভ্যস্ত। পছন্দের গরু কিনে বাড়িতে এনে তাই অনেকেই এর ‘ক্লান্তি’ দেখে হয়ে পড়ছেন উদ্বিগ্ন। প্রিয় পশুর যত্ন-আত্তি নিয়ে তাদের নানা প্রশ্ন ঘুরছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে।
সিদরাতুল মুনতাহা নামের একটি আইডির পোস্ট— ‘গরু হাট থেকে কেনার পর গাড়িতে তোলা যায়নি। অনেক কষ্টে হেঁটে বাসায় আনতে হয়েছে। এখন গরুটির বসতে কষ্ট হচ্ছে, সারারাত ঘুমায়নি। খুব চিন্তা হচ্ছে, কীভাবে যত্ন নেব?’
আরেক ক্রেতা জানালেন নিজের অভিজ্ঞতা। ‘হাট থেকে গরু কিনে বাসায় আনার পর গরু কিছুই খাচ্ছে না। শুধু অল্প পানি আর শুকনো খড় খেয়েছে। ভুসি ও কুড়া দিলাম, একটুও মুখে নিল না। এমন কেন হচ্ছে, কেউ বলবেন?’
এসব প্রশ্ন নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে চট্টগ্রামের মেট্রো প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে। ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা দূর করতে কিছু জরুরি ও প্রাথমিক পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
‘কোরবানির এই পশুগুলো মূলত দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাকে করে আনা হয়েছে। এরপর হাটে এসেও তারা ঠিকমতো বসার সুযোগ পায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে পশুগুলো প্রচণ্ড স্ট্রেস বা মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়। এই দীর্ঘ ক্লান্তির কারণে অনেক গরু ওঠা-বসায় অস্বস্তিবোধ করে এবং মাংসপেশিতে ব্যথার কারণে ঘুমাতে পারে না।’
গরুর এমন আচরণ দেখে অল্পতেই হতাশ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই বলে জানালেন এই চিকিৎসক। ‘শরীর ব্যথার কারণে উঠতে-বসতে না পারলে গরুর প্রতি ১০০ কেজি ওজনের জন্য একটি করে নাপা ওয়ান ট্যাবলেট দিনে দুই থেকে তিনবার খাওয়ানো যেতে পারে। এতে পশুর শরীরের ব্যথা ও ক্লান্তি কমে আসবে।’
হাট থেকে আনার পর গরু খাবার খেতে না চাইলে দিনে ১০০ গ্রাম খাবার সোডা অথবা ১০০ গ্রাম আদা চেঁছে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে পশুর পেটে গ্যাস জমে থাকলে তা দ্রুত চলে যাবে এবং অরুচি ভাব কেটে যাবে বলে জানালেন ডা. সাজ্জাদ।
শহরের অনেক শৌখিন ক্রেতা গরুকে ‘অতি যত্নে’ ঘরের ভাত বা তরল খাবার দেন, যা পশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ডা. সাজ্জাদের কড়া হুঁশিয়ারি, “কোরবানির পশুকে কোনো অবস্থাতেই ভাত, ভাতের মাড় কিংবা খুদ—এসব জিনিস খাওয়ানো যাবে না। কারণ এগুলো গরুর পাকস্থলীতে দ্রুত গিয়ে কার্বোহাইড্রেট হজমের সমস্যা বা ‘অ্যাকিউট লুমিনাল অ্যাসিডোসিস’ তৈরি করে, যা তীব্র বদহজম ও পেট ফাঁপার কারণ হয়।”






