বিদেশে পড়তে গিয়ে কোন দেশে কত ঘণ্টা কাজ করা যায়
- দেশভেদে নিয়ম ভিন্ন
- সীমা ছাড়ালে ঝুঁকিতে ভিসা

ছবি: এআই
বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন—পড়াশোনার পাশাপাশি কত ঘণ্টা কাজ করা যায়? অনেকেই পার্ট-টাইম চাকরির আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর পরিকল্পনা করেন। তবে দেশভেদে এ নিয়মে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। কোথাও সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করা যায় না, আবার কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিতে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থী ভিসার মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা। তাই নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করলে শুধু জরিমানাই নয়, ভিসা বাতিলের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম জানা জরুরি।
কানাডা: সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য কানাডা। দেশটির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে নির্ধারিত ছুটি—যেমন গ্রীষ্ম বা শীতকালীন বিরতিতে—পূর্ণকালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
কানাডা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের ভেতরে কাজের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নির্দিষ্ট ঘণ্টার সীমা নেই। তবে শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিটের শর্ত মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া: দুই সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা
অস্ট্রেলিয়া সরকারের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালে প্রতি ১৪ দিনে (ফর্টনাইট) সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের অনুমতি রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্থানীয় কর্মীদের মতোই ন্যূনতম মজুরি, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য শ্রম অধিকার প্রযোজ্য।
যুক্তরাজ্য: সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা
যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ডিগ্রি পর্যায়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা টার্ম চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে।
তবে ডিগ্রির নিচের কিছু কোর্সে এ সীমা সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা। খণ্ডকালীন বা কিছু নির্দিষ্ট কোর্সে আবার কাজের অনুমতিই নেই।
জার্মানি: বছরে নির্দিষ্ট কর্মদিবস
জার্মানিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের নিয়ম নিয়ে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ইকোনোমিক টাইমস।
এতে বলা হয়, জার্মানিতে ঘণ্টাভিত্তিক সীমার পরিবর্তে কর্মদিবসের হিসাব করা হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ১২০ পূর্ণ কর্মদিবস অথবা ২৪০ অর্ধদিবস কাজ করতে পারেন। এর বেশি কাজ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র: প্রথম বছরে সীমাবদ্ধতা
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ম অনুযায়ী দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত প্রথম শিক্ষাবর্ষে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে পারেন না। ক্যাম্পাসের ভেতরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ রয়েছে। ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজ করা যায়। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (CPT) বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT)-এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। (তথ্য: ইউএস স্টুডেন্ট ভিসা নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্দেশিকা।)
নিউজিল্যান্ডেও বেড়েছে সুযোগ
নিউজিল্যান্ডে সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষ চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। আগে এ সীমা ছিল ২০ ঘণ্টা।
শুধু আয় নয়, অভিজ্ঞতাও
শিক্ষাবিদদের মতে, বিদেশে পার্ট-টাইম চাকরি শুধু অর্থ উপার্জনের সুযোগ নয়; এটি স্থানীয় কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা, ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে অতিরিক্ত কাজের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হওয়ার নজিরও রয়েছে।
নিয়ম ভাঙলে কী হতে পারে?
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী বেশি আয়ের আশায় অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করেন। কিন্তু এটি শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের শামিল। এর ফলে ভিসা বাতিল, ভবিষ্যতে ভিসা প্রত্যাখ্যান কিংবা দেশত্যাগের নির্দেশও আসতে পারে। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে এসব শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে।





