বসে বসে বাড়ছে ওজন? সতর্ক হোন এখনি

সংগৃহীত ছবি
সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ করেন, অথচ খাওয়াদাওয়া তেমন না বদলালেও কি হঠাৎ ওজন বাড়তে শুরু করেছে? শরীর ভারী লাগে, ক্লান্তি পিছু ছাড়ে না? অনেকেই ভাবেন, শুধু ব্যায়াম করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে দিনের বেশিরভাগ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার মধ্যেই।
কেন ডেস্কে বসে কাজ করলে ওজন বাড়ে?
ডায়েটিশিয়ান ও ডায়াবেটিস এডুকেটর কানিকা মালহোত্রা বলেন, দীর্ঘসময় বসে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। ফলে শরীর কম ক্যালরি পুড়ায়, ফ্যাট জমতে থাকে, আর শক্তির ব্যবহার কমে যায়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে শরীরের ‘মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ কমে- মানে শরীর কার্বোহাইড্রেট আর ফ্যাটের মধ্যে শক্তির উৎস বদলাতে পারে না। এর ফলে-
আজকের কর্মজীবনে দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে থাকা এড়ানো কঠিন। কিন্তু সচেতন থাকলে এই অভ্যাসের ক্ষতি কমানো সম্ভব। দিনের মাঝে ছোট হাঁটা, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাবার আর ভালো ঘুম - এগুলোই আপনার শরীরের বিপাক ঠিক রাখবে, আর ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
আপনি যখন বসে থাকেন, তখন দাঁড়ানো বা নড়াচড়া করার তুলনায় কম শক্তি ব্যবহার করেন।
অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকেন—যেমন ডেস্কে কাজ করার সময়, গাড়ি চালানোর সময় বা স্ক্রিনের সামনে। গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত বসে থাকার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি এমন কিছু শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও যুক্ত, যেগুলো মিলিয়ে মেটাবলিক সিনড্রোম তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা, কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি এবং অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা।
অতিরিক্ত বসে থাকা হৃদরোগ ও ক্যানসারের কারণে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
গবেষকেরা ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের ওপর করা ১৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে বসে থাকার সময় ও শারীরিক কার্যকলাপের মাত্রা পর্যালোচনা করা হয়। দেখা গেছে, যারা দিনে আট ঘণ্টার বেশি সময় বসে থাকেন এবং কোনো শারীরিক ব্যায়াম করেন না, তাদের মৃত্যুঝুঁকি স্থূলতা ও ধূমপানের ঝুঁকির সমান। তবে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭৫ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়।
আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বেশি সক্রিয় থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে বসে থাকার সময় মৃত্যুঝুঁকির ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না।
সব মিলিয়ে, কম বসা এবং বেশি নড়াচড়া করা সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। আপনি প্রতি ৩০ মিনিট পরপর একটু দাঁড়িয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শুরু করতে পারেন। অথবা কাজের মাঝেই হাঁটার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। নিচে আরও কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো—
ফোনে কথা বলার সময় বা টিভি দেখার সময় দাঁড়িয়ে থাকুন।
যদি ডেস্কে কাজ করেন, তাহলে কিছু সময়ের জন্য স্ট্যান্ডিং ডেস্ক ব্যবহার করতে পারেন। না থাকলে উঁচু টেবিল বা কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারেন। তবে শুধু দাঁড়িয়ে থাকা একাই অতিরিক্ত বসে থাকার ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কনফারেন্স রুমে বসে মিটিং করার পরিবর্তে সহকর্মীদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে মিটিং করুন।
ট্রেডমিলের ওপর একটি উঁচু স্ট্যান্ডে কম্পিউটার রেখে কাজ করতে পারেন, যাতে কাজের সময়ও নড়াচড়া করা যায়। এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি ট্রেডমিল-সহযোগী উল্লম্ব ডেস্কও ব্যবহার করতে পারেন।
সব ধরনের নড়াচড়াই আপনার স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হালকা চলাফেরাও উপকারী। এতে আপনি বেশি ক্যালরি খরচ করবেন, যা ওজন কমাতে এবং শক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া শারীরিক কার্যকলাপ পেশির গঠন উন্নত করে এবং মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।



