এআইয়ের ভয় কাটাতে ‘কিউট’ ম্যাসকট

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগের মধ্যেই ওপেনএআই, মেটাসহ অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি ঘোষণা দিয়েছে ‘কিউট’ ও আকর্ষণীয় ম্যাসকটের। এ যেন ভয়ংকর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার ভিড়ে এআই ব্যবহারকারীদের একটু সান্ত্বনা দেওয়ার প্রচেষ্টা। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ এসব ম্যাসকট বা চরিত্রভিত্তিক আকারের কার্টুনের পেছনে আছে নতুন এক দুশ্চিন্তা। প্রযুক্তি জগতের নতুন এ মার্কেটিং উদ্যোগ বাড়িয়ে দিতে পারে ব্যবহারকারীদের তথ্য শেয়ারের প্রবণতা। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেখতে ‘কিউট’ চেহারার আড়ালে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে এসব ম্যাসকট।
ওপেনএআই গত মঙ্গলবার উন্মোচন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত অত্যন্ত একটি আকর্ষণীয় টুল ‘ডটস’। এটিকে তারা ঘোষণা করেছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখন শামিল হলো মেটার কাতারে। মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই তাদের নতুন ‘মিউজ’ অ্যাসিস্ট্যান্টের কথা জানায়। এ দুটি টুলই মূলত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘এজেন্টিক’ এআইয়ের সংস্করণ, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কোনো টুল বাস্তবজগতে নিজে থেকেই বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম। তবে এদের মধ্যে শুধু প্রযুক্তিরই মিল নেই। ‘ডটস’ ও ‘মিউজ’ উভয়েরই এমন সব ‘ম্যাসকট’ বা প্রতীকী চরিত্র রয়েছে, যা বিশেষভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর করে তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এই অ্যাসিস্ট্যান্টগুলোকে এমন সব চরিত্রে রূপ দেওয়া, যা মানুষের মনে তাদের প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা বা মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের অধ্যাপক ড. রবার্টস। তার গবেষণাপত্রে মূলত বিপণনকারীদের তাদের ব্র্যান্ডিংয়ে ‘কিউটনেস’ বা আদুরে ভাবটি কাজে লাগাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তার মতে এ মার্কেটিংয়ে মানুষের মধ্যে তাদের এআই এজেন্টগুলোর প্রতি এক ধরনের মানসিক সংযোগ তৈরি হয়। এটি ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টি ও পণ্যের প্রতি আনুগত্য বাড়িয়ে তোলে। তবে এটির নেতিবাচক দিক আছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। রবার্টস বলেছেন, ‘ঝুঁকিটি হলো, এআইচালিত কাল্পনিক চরিত্রগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। এমনকি তারা যদি নির্ভরযোগ্য নাও হয় এবং এর ফলে তারা ব্যবহারকারীদের এমন সব বিষয় বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করতে পারে, যা মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা অনৈতিক।’



