হৃদয়ের নায়ক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হলুদ ঠোঁট সবুজ রঙের কবি পাখি বলল, ‘চিঁউ চিঁউ! চিঁউ চিঁউ!’
‘মানে কী এর?’
এর মানে হলো, ‘তুমি আমাদের বন্ধু। তোমার পরিচয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
ফিউ মৃদু হেসে বলল, ‘আমি মানুষও নই, পাখিও নই, দানবও নই। আমি শুধু ফিউ, যে অন্যদের ভালোবাসতে জানে।’
এ কথা শুনে সব পাখি আনন্দে ডানা ঝাপটাতে লাগল। কিন্তু হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে গেল। প্রচণ্ড শীতল বাতাস বইতে শুরু করল। মজন্তালী সরকার দৌড়ে এসে চিৎকার করে বলল, ‘হুক্কা হুয়া! বিপদ! আরও ভয়ংকর শীত আসছে! এত শীত আগে কখনো পড়ে নাই!’
পাখির ছানাগুলো ভয়ে কাঁপতে লাগল। তারা জানত, এমন শীতে তারা বাঁচবে না।
ফিউ কিছুক্ষণ চিন্তা করল। তারপর নিজের বিশাল দাড়ি খুলে চারদিকে ছড়িয়ে দিল। দাড়িগুলো যেন নরম কম্বলের মতো হয়ে গেল। সে পাখিদের বলল, ‘এসো, তোমরা সবাই এর ভেতরে আশ্রয় নাও।’
শত শত পাখি, তাদের ছানা আর ছোট প্রাণীরা ফিউয়ের দাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিল। বাইরে তুষারের মতো শিশির পড়তে শুরু করল। গাছের পাতা জমে বরফের মতো শক্ত হয়ে গেল। কিন্তু ফিউ নড়ল না। সে দাঁড়িয়ে রইল, যেন এক বিশাল পাহাড়!
তিন দিন তিন রাত পর শীত কিছুটা কমে এলো। সূর্যের আলো ফুটতেই পাখিরা একে একে বেরিয়ে এলো। তারা অবাক হয়ে দেখল, ফিউ ঠান্ডায় নিজে প্রায় জমে গেছে; কিন্তু তার মুখে এখনো হাসি।
হলুদ ঠোঁট সবুজ কবি পাখি ভেজা চোখ নিয়ে বলল,
‘নিজে যে কাঁদে চুপিচুপি,
বাঁচায় সবার প্রাণ,
সে-ই তো সত্যিকারের বন্ধু,
সে-ই মহীয়ান।’
সব পাখি একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল, ‘চিঁউ চিঁউ! চিঁউ চিঁউ!’
এর অর্থ ছিল, ‘ফিউ আমাদের হৃদয়ের নায়ক।’
সেদিন থেকে বনের সবাই ফিউকে আর মানুষ, দানব কিংবা অ্যালিয়েন বলে ডাকল না। তারা তাকে ডাকল, ‘বন্ধু ফিউ।’
আর যখনই শীত আসত, পাখিরা তাদের ছানাদের ফিউয়ের গল্প শোনাত। ফিউ এক অদ্ভুত সত্তা, যার পরিচয় কেউ জানত না; কিন্তু যার হৃদয় ছিল আকাশের চেয়েও বড়।
এই গল্প থেকে আমরা কী শিখলাম?
শিখলাম, প্রকৃত পরিচয় বাহ্যিক রূপে নয়; মহানুভবতা, দয়া, ভালোবাসা এবং অন্যকে রক্ষা করার মানসিকতার মধ্যেই নিহিত।




