প্রাচীন ডানা

কোটি কোটি বছর আগের কথা। পৃথিবীতে তখন মানুষ ছিল না। দাবড়ে বেড়াত ছোট্টমোট্ট থেকে বিরাট আকৃতির সব ডাইনোসর। অসংখ্য ধরনের। সেগুলোর কথা বিজ্ঞানীরা নানাভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। কিছু ডাইনোসরের ছিল পাখির মতো ডানা। এমনই একটির গল্প শোনাচ্ছেন স্বর্ণা রায়
আমি আর্কিওপ্টেরিক্স। নামটা শুনতে কঠিন মনে হলেও দেখতে ছিলাম তোমাদের পরিচিত কবুতরের মতো। দুনিয়ায় ছিল প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে। আমার মধ্যে একই সঙ্গে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকায় প্রাণীবিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি আমি ডাইনোসর নাকি পাখি। তবে নামকরণ নিয়ে কিন্তু কোনো অনিশ্চয়তা নেই। ‘আর্কিওপ্টেরিক্স’-এর বাংলা অর্থ ‘প্রাচীন ডানা’। গ্রিক শব্দ ‘আর্কিওস’ (প্রাচীন) এবং ‘পটেরিক্স’ (ডানা) থেকে হয় এই নামকরণ। ১৮৬১ সালে জার্মানির সোলেনহোফেন চুনাপাথর খনিতে প্রথমবারের মতো আমার জীবাশ্ম পায় মানুষ।
এখন ভাবছো, আমি দেখতে কবুতরের মতো হলে বিজ্ঞানীরা আমাকে ডাইনোসর ভাবছে কেন? আসলে আমার দাঁত ছিল ডাইনোসরের মতো ধারালো, আর লেজ বেশ লম্বা— ঠিক যেন কোনো ছোট্ট ড্রাগন! কিন্তু শরীর নরম পালকে ঢাকা পাখির মতন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমার ডানা থাকলেও সেখানে ছিল ছোট ছোট নখ। ওই নখ দিয়ে আমি অনায়াসেই বড় বড় গাছে চড়ে বেড়াতাম।
এসব শুনে প্রশ্ন করতে পারো, ডানা থাকলেও আমি গাছ চড়ে বেড়াতাম কেন? তার মানে উড়তে পারতাম না? পারতাম কি না, আমার আসলে ঠিকঠাক মনে নেই! এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ বিতর্ক আছে। অনেকে বলেন, আমি হয়তো ভালোভাবে উড়তে পারতাম না। তবে বাতাসে ভর দিয়ে এক ডাল থেকে আরেক ডালে গ্লাইড করে চলে যেতাম।
এদিকে আবার বিজ্ঞানীরা আমার প্রজাতি নিশ্চিত করতে না পারলেও একটি ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আমার পালকের রঙের কথা বলছি। তা ছিল কুচকুচে কালো, আধুনিক পাখির পালকের মতো চ্যাপ্টা। দেখতে পালকের কলমের মতো।
এই বৈশিষ্ট্য দেখেই বিজ্ঞানীরা প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন, আধুনিক পাখিগুলো আসলে প্রাচীন ডাইনোসরদেরই আধুনিক রূপ বা বংশধর। তাই তুমি চাইলে আমাকে পাখি পরিবারের সবচেয়ে বড় দাদুও বলতে পারো।




