সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে কোনো কোনো কিশোর অপরাধপ্রবণ বন্ধু বা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্তানকে শুধু শাসন নয়; সময় দেওয়া, বোঝা এবং সঠিক পথে পরিচালনা করা জরুরি।
বাড়ির শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে কিছুটা সময় কথা বলুন। তার পড়াশোনা, বন্ধু, পছন্দ-অপছন্দ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় সময় কাটাচ্ছে— সে বিষয়ে খোঁজ রাখুন। হঠাৎ আচরণ পরিবর্তন, পড়াশোনায় অনীহা, রাত করে বাইরে থাকার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তি, সন্দেহজনক গ্রুপ বা সহিংসতামূলক কনটেন্টের বিষয়ে সন্তানকে সচেতন করুন। তবে নজরদারির পাশাপাশি তাকে অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়েও শিক্ষিত করা প্রয়োজন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, বই পড়া, স্বেচ্ছাসেবা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু পরিবার নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক আলোচনা, কাউন্সেলিং এবং মাদক ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশুকে শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। শিশু আইন, ২০১৩-এও শিশুর মর্যাদা ও শিশুবান্ধব ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্তানকে ভয় দেখিয়ে নয়; ভালোবাসা, বিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সঠিক পথ দেখাতে হবে। পরিবার সচেতন হলে, সমাজ দায়িত্ব নিলে এবং রাষ্ট্র কার্যকর ভূমিকা রাখলে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ সম্ভব।
লেখক: শিক্ষানবিশ আইনজীবী, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা



