শৈশবের রোমাঞ্চ

সংগৃহীত ছবি
বয়স তখন কতইবা হবে? আমি নিজের সাত-আট, ছোট ভাই তো আরও ছোট।
এক ডোবার মুখে বাঁধ দিয়ে বানিয়েছিলাম এক আস্ত জলের ফাঁদ। সেই কৃত্রিম ডোবায় বর্ষার জল জমলেই কোত্থেকে যেন হরেক পদের মাছের আনাগোনা শুরু হতো। সেদিনও মুষলধারে বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে একজোড়া বাটি হাতে আমরা হাজির হলাম সেই ডোবার পাড়ে। বৃষ্টি নামছে অঝোরধারায় আর আমরা দুই পিঠাপিঠি ভাইবোন গায়ের শক্তি দিয়ে বাটি দিয়ে সেচে চলেছি ডোবার জল। সেচা যখন প্রায় শেষ, থকথকে জলের নিচে শুরু হলো রুপালি ডানার ছটফটানি!
একে একে ধরা পড়ল জ্যান্ত কৈ, মাগুর, বিষাক্ত কাঁটার শিং মাছ, পিছল বাইম আর ডোরাকাটা টাকি মাছ। শেষমেশ এক গামলা তাজা মাছ নিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে কাদা মেখে বাড়ি ফিরলাম।
আরেকদিনের ঘটনা। সকাল থেকে একটু একটু বৃষ্টি পড়ছিল। ছিপে টোপ গেঁথে চুপিচুপি গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে বড়শি ফেলে এলাম। ভাবলাম কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখব। কিন্তু বাড়ি ফিরতেই আকাশ ভেঙে নামল মুষলধারে বৃষ্টি। একমুহূর্তের জন্য থামার নাম নেই! কিন্তু আমার মন তো পড়ে আছে পুকুরপাড়ে!
বর্ষার জলের ধারা ভেদ করে এক ফাঁকে ভোঁ-দৌড় দিলাম পুকুরপাড়ে। গিয়ে দেখি টোপের ভাসমান ফাতনাটি একদম পানির নিচে ডুবে গেছে! নিশ্চয়ই বেশ বড় কিছু গেঁথেছে! বুকে ধুকপুকানি নিয়ে টান মেরে বড়শিটা ডাঙায় তুলতেই রক্ত হিম হয়ে গেল! বড়শির সুতোয় পেঁচিয়ে শূন্যে ঝুলছে বিশাল এক কুচকুচে লম্বা সাপ!
ভয়ে ছিপ সজোরে ছুড়ে ফেললাম পাশের হলুদ গাছের ঝোপে। আর সেই বৃষ্টির মধ্যে গলা ফাটিয়ে চিৎকার জুড়ে দিলাম— ‘সাপ! সাপ!’
আমার আর্তচিৎকারে ঘর থেকে ছুটে এলেন আব্বা। পেছনে পেছনে দৌড়ে এলো আমাদের বাড়ির কাজের লোক ফরিদ চাচা। লতিয়ে থাকা ঝোপের ভেতর থেকে সাবধানে বড়শিটা টেনে বের করলেন ফরিদ চাচা। তখনই বর্ষার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হেসে উঠলেন আব্বা আর চাচা!
চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দেখি, ওটা কোনো সাপই নয়! এক প্রকাণ্ড বাইম মাছ!




