মা তোমার জন্য

ফাইল ছবি
নেপালে ২০১৮ সালের সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানো এক বাবার গল্প বলেছেন স্বর্ণা রায়
২০১৮ সালের ১২ মার্চ। সবার মতোই এক আনন্দভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-২১১ ফ্লাইটে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন আলোকচিত্রী ফারুক হোসেন প্রিয়ক। সঙ্গে তারে স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, তিন বছরের আদরের কন্যা প্রিয়ংময়ী তামাররা, ভাই মেহেদি হাসান এবং তার নববিবাহিতা স্ত্রী সৈয়দ কামরুন্নাহার স্বর্ণা।
অবতরণের কিছুক্ষণ আগে ঘোষণা এলো সিটবেল্ট বাঁধার। সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎই সেই স্বাভাবিকতার ছন্দ ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি রানওয়েতে আছড়ে পড়ে, ছিটকে যায়, ভেঙে চুরমার হয়ে আগুনে জ্বলে ওঠে। চারদিকে তখন শুধু আগুন, ধোঁয়া, আর্তনাদ আর মৃত্যুভয়।
মেহেদি ও তার স্ত্রী উড়োজাহাজের ভাঙা অংশ দিয়ে কোনোভাবে বেরিয়ে আসেন। আর প্রিয়ক স্ত্রী এ্যানিকে নিয়ে বিমানের বাইরে এসে বুঝতে পারেন, তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটি, তাদের তিন বছরের মেয়ে ছোট্ট তামাররা এখনো আগুনে ঘেরা বিমানের ভেতরে। প্রিয়ক স্ত্রীকে বাইরে রেখে আবার ছুটে গেলেন জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপের দিকে। কারণ সেখানে ছিল তার সন্তান, তার হৃদয়ের এক টুকরো।
তামাররাকে বাঁচানোর সেই মরিয়া চেষ্টায় আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় ফারুক হোসেন প্রিয়ককেও। মেয়ের সঙ্গে চিরবিদায় নিলেন প্রিয়কও। নিজের জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে, বাবারা শুধু সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন না, প্রয়োজন হলে সন্তানের জন্য নিজের পৃথিবীটাও ত্যাগ করে দেন।




