ভক্তদের কেউ বলেছেন প্রিয় চরিত্র নিয়ে, কেউ রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, কেউ অন্য কোনো বিষয় নিয়ে।
মাসুদ রানাকে নিয়ে ভক্তরা যা বললেন

পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে মাসুদ রানার লাখো ভক্ত।
পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে মাসুদ রানার লাখো ভক্ত। তাদের মধ্যে ১৮ বছরের তরুণ যেমন আছেন, তেমনি আছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ। অবশ্য মাসুদ রানার ভক্তদের বয়স যা-ই হোক না কেন, মনের দিক থেকে ‘তরুণ’ সন্দেহ নেই। তাদের মাসুদ রানা নিয়ে পছন্দ-অপছন্দ, প্রিয়-অপ্রিয় একেক রকম। এই ভক্তদের কেউ বলেছেন প্রিয় চরিত্র নিয়ে, কেউ রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, কেউ অন্য কোনো বিষয় নিয়ে।
প্রিয় চরিত্র
সোহেল, সোহানা, রাহাত খান, গিলটি মিয়াসহ শত শত নামের ভিড়ে আমি আলাদা করে বলব শত্রু থেকে বন্ধুতে পরিণত হওয়া একজনের নাম। কেউ যদি ‘পপি’ বা ‘বন্দী গগল’ পড়ার পরে ‘স্বর্ণতরী’ পড়েন, তিনি নিশ্চিত ভেবে নেবেন এই ‘গগল’ আর রানার বন্ধু ‘ভিনসেন্ট গগল’ দুজন আলাদা লোক, স্রেফ নাম মিলে গেছে। পরে হিফজুর রহমান তার উপন্যাস সিরিজের ডুয়ো ‘ধূসর দেয়াল’ আর ‘অতল প্রলোভন’-এ ফিরিয়ে এনেছেন এই চরিত্রকে।
রানা সিরিজের আরও কিছু বইয়ে রানাকে অস্ত্র সরবরাহ কিংবা কঠিন কোনো মিশনের জন্য গগলের সাহায্য নিতে দেখা যায়। অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তা, পেশার অবৈধ প্রকৃতি সত্ত্বেও মানবিক গুণাবলি— এসবের পাশাপাশি সেই কৈশোর থেকে গগলের যে গুণটা মনে দাগ কেটে গেছে; তা হলো বন্ধুত্বের সংজ্ঞা।
—কারন তালুকদার
আমার বেলায় ভালোবাসার আগে সম্ভবত একটা ‘ইনফ্যাচুয়েশন’ পর্ব ছিল। আমি শুরু করেছিলাম ১৯৬৭-তে, সিরিজের দ্বিতীয় বই ভারত নাট্যম দিয়ে। তখন বয়স মোটে আট। ভালোবাসায় পড়ার বয়স হয়নি তখনো; সেজন্যই বলছিলাম, ইনফ্যাচুয়েশনের কথা। আসলে আমার মনোজগতের পুরো বেড়ে ওঠাটাই মাসুদ রানার সঙ্গে আর সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ইনফ্যাচুয়েশন, ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়েছে।
পরিবার আর শ্রেণিকক্ষের বাইরে বই, আমার আর জেনারেশনের অনেকেরই মানস গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল। এর মধ্যেও আলাদা করে একটি চরিত্রের কথা বলতে বললে আমি মাসুদ রানার কথাই বলব। দেশপ্রেম, কামারাডেরি, নারীর প্রতি সম্মান আর শিশুদের প্রতি দায়িত্ববোধ— এর অনেকটুকু শিখেছি মাসুদ রানার কাছে। ভূগোল, টেকনোলজি, বিশ্বরাজনীতি, এমনকি ইতিহাস আর মিথোলজি এমন অনেক কিছুই রানা শিখিয়েছে, যা আমার মতো রানাভক্তদের সমসাময়িক অনেকের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে রেখেছে।
এমন একজনকে ভালো না বেসে উপায় আছে!
—মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন
রোমাঞ্চকর মুহূর্ত
‘বানের জলে লাশের মতো ভেসে আসছে থোর্সহ্যামার, পয়েন্টের কাছে আসতেই দেখতে পাওয়া গেল তাকে। কন্ট্রোল পুরো না হলেও, অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছে। টারবাইনগুলো লড়ছে; কিন্তু কোনো সুবিধা করতে পারছে না তীব্র স্রোতের সঙ্গে। কোহলারের শিকারদের মতোই অবস্থা, বিশেষ কিছু করার নেই তার। কামানের টার্গেট হিসেবে এর চেয়ে আদর্শ কিছু গোটা ইনলেটে আর নেই।’ ‘বিদায় রানা’র এ অংশ পড়লে দৃশ্যটা চোখের সামনে সিনেমার মতো ভেসে ওঠে। সরু সেই সমুদ্রপথের প্রতিটি অংশ তার নিশানায়। এদিকে স্রোতে দুলতে দুলতে ঢুকছে থোর্সহ্যামার। ক্রুরা মরিয়া হয়ে জাহাজ সামলানোর চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই ওয়াল্টার সুযোগটা নেয়।






