উঠোনে হাঁটু জলে মাছ ধরা

ফাইল ছবি
শ্রাবণে নিয়ম করেই বৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। কাজেই আমারও ধূসররঙা দিনে বারান্দায় বসে একটু-আধটু করে চায়ের পেয়ালায় চুমুক আর স্মৃতি রোমন্থন চলছে। বৃষ্টির কথা যখন এলোই, ছেলেবেলার বৃষ্টিতে ফিরে যাওয়া যাক।
আহা, কী বৃষ্টিই না ছিল তখন! আকাশটা দেখলে মনে হতো কেউ যেন ছাই মেজে-ঘষে কালচে বানিয়ে দিয়েছে। হাওয়ার জোর বাড়ার সঙ্গে দুড়ুম করে জানালার কবাট কিংবা দরজার বাড়ি খাবার আওয়াজ আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ত আমাদের উত্তেজনাও। বাবুভাইদের ঝাঁকড়া গাছটার আম ওই পড়ল বুঝি! হাওয়া যখন বেজায় রকমের ঠান্ডা হতো, আমাদের খুশিও সেই সঙ্গে উপচে পড়ত। একটু পরেই শিলাবৃষ্টি হবে যে, তারই আভাস!
ছোট ছোট বরফের টুকরোকে আমরা বলতাম ‘কুল’। ওই কুল কুড়ানোর জন্যই হেঁশেল থেকে কাচ্চা-বাচ্চার দল সব হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে হাজির। খুদে হাতে সবুজ ঘাস থেকে কুল কুড়োচ্ছি, কেউ কেউ চকলেটের মতো ওরই দুয়েকটা আবার মুখেও পুরে দিচ্ছি।
একদিন দুপুরে দুটো ভাত খেয়ে জিরোচ্ছি, অমনি মেঘের বান ডাকল আর সে কী বৃষ্টি! আমাদের বাসা থেকে জাহিদের বড় আম্মা যে পাঁচিলের ওপরে আচার রোদে দেয়, ওটা অবধি দেখা যায় না। মুরগিগুলোকেও দাবড়াতে হয়নি, দিব্যি সুড়ুৎ করে ঘরে সেঁধিয়ে বসে আছে।
কেবলই ঝমঝম! ঝমঝম!
সেই বৃষ্টি থামল সাঁঝের খানিক আগে। কোত্থেকে যেন মেঘচোরের দল এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল মেঘের সমুদ্দুরকে। উঠোনে তখন একহাঁটু জল। ছেলেপিলের দলের সঙ্গে আমিও জুটে গেলাম গামছা হাতে। স্রোতের টানে জল নেমে যাচ্ছে পাশের ডোবায় আর আমরাও ‘আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে’!
খানিকক্ষণ দাপাদাপির পর আমার লাল-সবুজ ডুরে গামছায় উঠল তর্জনীর সাইজের একটা খলসে! সাঁঝের আলো-আঁধারির মাঝে চকচক করছে। কমলা, নীলাভ আর রুপালি মেশানো ঝলমলে রঙ। ওই-ই আমার জীবনের প্রথম মাছ ধরা। স্মৃতির মণিকোঠায় তাই আজও জ্বলজ্বল করছে!




