চোখের কর্নিয়া পাতলা হয় যে কারণে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চোখের মণি বা কর্নিয়া যখন তার স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে একটু একটু করে সামনের দিকে সুচালো হয়ে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে বলা হয় ‘কেরাটোকোনাস’। এটি কর্নিয়ার এমন একটি রোগ, যেখানে কর্নিয়ার কেন্দ্র বা তার আশপাশের অংশ ক্রমে পাতলা হয়ে যেতে থাকে। ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায় এবং সাধারণ চশমায় এর উন্নতি হয় না। এই সমস্যা অবহেলা করলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
সাধারণত কিশোর ও বিশের কোঠায় যারা তাদেরই এই রোগের লক্ষণ প্রথম দেখা দেয়। বংশগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১০ শতাংশ। চোখের অ্যালার্জি, হাঁপানি, একজিমা এবং দীর্ঘদিন ধরে চোখ চুলকানো বা ঘষার অভ্যাস এর অন্যতম ঝুঁকির কারণ। বিশেষ করে বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার ওপর চাপ পড়ে এবং রোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
এ ছাড়া ডাউন সিনড্রোম, এহলার্স-ড্যানলস সিনড্রোম, মারফান সিনড্রোম, অস্টিওজেনেসিস ইমপারফেক্টা, লেবার কনজেনিটাল অ্যামাউরোসিস এবং রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসার মতো কিছু জন্মগত বা বংশগত রোগের সঙ্গেও কেরাটোকোনাসের সম্পর্ক রয়েছে।
কীভাবে বুঝবেন আপনার কেরাটোকোনাস হয়েছে?
প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত একটি চোখে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। কেরাটোকোনাসের প্রধান উপসর্গ হলো—
- দৃষ্টিশক্তি ক্রমে কমে যাওয়া;
- চশমার পাওয়ার বা সিলিন্ডার পাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তন করেও দৃষ্টি খুব একটা স্পষ্ট না হওয়া;
- অ্যাস্টিগমেটিজম বা দৃষ্টির ঝাপসা ভাব বেড়ে যাওয়া;
- রোগ যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন কর্নিয়ায় পানি জমে তীব্র ব্যথা হতে পারে, যাকে চিকিৎসকরা ‘অ্যাকিউট হাইড্রপস’ বলেন। অনেক সময় এই ব্যথাই প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা ও করণীয়
কেরাটোকোনাস ধরা পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে চিকিৎসার পথ অনুসরণ করুন। এর চিকিৎসার ধাপগুলো মূলত রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। রোগের শুরুতে সঠিক পাওয়ারের চশমা বা সফট কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারেই দৃষ্টি অনেকটা ভালো রাখা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের ফলোআপে থাকা জরুরি।
এছাড়া, রিজিড কন্টাক্ট লেন্স, কোলাজেন ক্রস লিঙ্কিং আইসিআরএস (ICRS), কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বা কেরালাপ্লাস্টির মতো চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।
সতর্কবার্তা: ল্যাসিক করার আগে সাবধান
কেরাটোকোনাস আক্রান্ত রোগীদের ল্যাসিক বা রিফ্রাক্টিভ সার্জারি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কারণ, ল্যাসিক কর্নিয়াকে আরও পাতলা ও দুর্বল করে দেয়। তাই চশমা ঝেড়ে ফেলতে অপারেশন করার আগে অবশ্যই কেরাটোকোনাস স্ক্রিনিং করা বাধ্যতামূলক।
১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে যদি সিলিন্ডার পাওয়ার বেশি থাকে বা ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তবে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন। চোখ ঘষার অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন।
লেখক: কনসালট্যান্ট, চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, বাংলাদেশ আই হসপিটাল ও ইনস্টিটিউট, ঢাকা



