যে ল্যাবের ৮০% বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
রনি রাকিবুল হক জাপানে নগরায়ণ নিয়ে গবেষণা করছেন। সেখানে পড়াশোনায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি
জাপানের ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের ঐতিহাসিক মাউন্ট হাকুসানের কোলেই আমার বিশ্ববিদ্যালয়, নাম জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। তিন ডিসিপ্লিনের (নলেজ সায়েন্স, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, আর ইনফরমেশন সায়েন্স) এই গ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ১ হাজার দুশ। ২০টির বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে নিজেদের মাস্টার্স, পিএইচডি অথবা পোস্টডক গবেষণা করতে আসেন। গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষত্ত্ব হলো, প্রত্যেক শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। অর্থাৎ শুরু থেকেই একজন বিশ্বমানের অধ্যাপকের নির্দেশনায় গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ মেলে এখানে। আমি যে ল্যাবে যুক্ত সেটির নাম ‘আরবান ডিজাইন সায়েন্স ফর হেলথ ল্যাবরেটরি,’ যেটির গবেষণার বিষয়বস্তু হলো পাবলিক হেলথ ও আরবান ডিজাইনের সম্পর্ক, আরবান ডিজাইন ও হেলথ সায়েন্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার; জলবায়ু পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য ও বিল্ট এনভায়রনমেন্ট সম্পর্ক অনুসন্ধান প্রভৃতি। ইরানি অধ্যাপক ড. জাভাদ কুশারির তত্ত্বাবধানে এই এক ল্যাবেই ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন, যা ল্যাবের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ।
ডাবল পিএইচডি (একটি আরবান ডিজাইনে আর অন্যটি হেলথ ও স্পোর্টস সায়েন্সে) এই অধ্যাপকের ইন্টারডিসিপ্লিনারি গবেষণার আগ্রহের স্মারক। বিখ্যাত সব আন্তর্জাতিক জার্নালে ১৫০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে অধ্যাপক জাভাদ কুশারির। যেগুলোর মধ্যে অন্তত ১০০টি কিউওয়ান জার্নালে প্রকাশিত। আরবান ডিজাইনার হিসেবে দুনিয়াব্যাপী দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক কুশারি বাংলাদেশিদের মধ্যে কী এমন পেলেন! তার উত্তরটা সহজ ও সরল— ‘বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা পরিশ্রমী। এই এক শক্তিতেই তারা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
‘বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা পরিশ্রমী। পরিশ্রমীরা এই এক শক্তিতেই অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
গল্পের শুরুটা ২০২৩ সালে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের স্নাতক সাব্বির হোসাইন খান পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন অধ্যাপক কুশারির অধীনে। একজন দিয়ে শুরু, কিন্তু তারপর আর থামতে হয়নি। সাব্বির হোসাইন খানের পরিশ্রম ও মেধাবী শিক্ষার্থীসত্তা দুনিয়ার অন্যতম সেরা আরবান ডিজাইনারকে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি এখন গোটা বাংলাদেশকেই ভীষণ পছন্দ করেন। তাই তো একে একে ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ঠিকানা হয়ে উঠেছে তার ল্যাবরেটরি। বাংলাদেশের বন্ধু অধ্যাপক কুশারির নেতৃত্বাধীন ল্যাবের নামটা ভালো করে খেয়াল করুন- ‘আরবান ডিজাইন সায়েন্স ফর হেলথ ল্যাবরেটরি।’ নগরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় থেকে বৃহৎ পরিকল্পনা সবকিছুই বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে যায় এখানে। অধ্যাপক জাভাদ কুশারির মতে, ‘সুস্থ শহরেরই সামর্থ্য আছে নাগরিকদের সুস্থ রাখার এবং আরবান ডিজাইনাররা শহরের ডাক্তার।’ আর তার এই ল্যাব শহরের হাসপাতাল। এই অতি জরুরি ও গৌরবময় অভিযাত্রায় যুক্ত হতে আগ্রহীদের সুযোগ রয়েছে বছরে দুই বার। একটি এপ্রিল সেশনে আর অন্যটি অক্টোবরে। অন্যান্য দেশের তুলনায় অল্প টিউশন ফি, মোটা অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনার সম্ভাবনা, বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ আর নিরাপদ জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা পেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়তে আসতে পারেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখে নিন শিক্ষকদের প্রোফাইল, খুঁজে বের করুন কোন শিক্ষকের গবেষণার সঙ্গে আপনার আগ্রহের মিল রয়েছে এবং তাকে অল্পকথায় ই-মেইলে জানান আপনার গবেষণা আগ্রহের কথা। তারপর কোনো অধ্যাপক আপনাকে তার ল্যাবে স্বাগতম জানালে ভর্তির লড়াইয়ে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে যাবেন অধিকাংশ ভর্তিচ্ছুর চেয়ে। সর্বশেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হলো, জাপানে পড়ালেখা করতে আসার আগে এ দেশের ভাষাটা শিখে আসতে পারলে এখানকার স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিতভাবেই আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে উঠবে আপনার জন্য।





