মরদেহ দেশে পাঠাতে অনেক টাকা লাগে

২০১৬ সালের শেষ দিকে ওমানে আমার প্রবাসজীবন শুরু হয়। পরিবারের হাল ধরতে দেশ ছেড়েছিলাম। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ ও নতুন কর্মস্থলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল।
ওমানের বাজারে একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথটিও সহজ ছিল না। নতুন সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং ক্রেতার আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ ছিল। ব্যবসার শুরু থেকে চেষ্টা করেছি সততা বজায় রেখে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করতে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল হিসেবে এখন ওমানে আমার দুটি বোরকার দোকান রয়েছে। পাশাপাশি গড়ে তুলেছি নিজস্ব একটি কারখানা, যেখানে কাজ করছেন প্রায় ২০ জন শ্রমিক।
দীর্ঘদিন ওমানে থাকার সুবাদে বাংলাদেশিদের নানা পেশায় কাজ করতে দেখেছি। নির্মাণশ্রমিক, চালক, রেস্তোরাঁ, হোটেলকর্মী থেকে শুরু করে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা— বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন আমাদের দেশের মানুষ। যে কাজই করি না কেন, বিদেশে আসার আগে কাজের দক্ষতা অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।
বিদেশে আছি। বেশ কিছু ঘটনা মনে স্থায়ীভাবে দাগ কেটে গেছে। ২০২১ সালে ওমানে এক প্রবাসী ভাই ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মারা যান। এখানে তার তেমন পরিচিত কেউ ছিলেন না। ফলে মরদেহ দেশে পাঠানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, একজন প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠাতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। তখন আমরা প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ওই প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। যারা ওমানে আসতে চান, তাদের বলব, শুধু অন্যের কথা শুনে বা তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কাজের ধরন, বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও নিয়োগদাতা সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিন। বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আসুন, নিজের দক্ষতা বাড়ান, সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা রাখুন।
প্রবাসে একজন বাংলাদেশি আরেকজনের পাশে দাঁড়ালে যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ব্যবসায়িক সাফল্য কিংবা আর্থিক অর্জনের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ প্রবাসজীবনের বড় প্রাপ্তি।
লেখক: ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক, ওমান



