পরামর্শ
সিভিতে ছবি দেওয়া উচিত কি না

চাকরির আবেদনপত্রের সঙ্গে পাঠানো জীবনবৃত্তান্তে প্রার্থীর ছবি যুক্ত করা উচিত কি না, তা নিয়ে বৈশ্বিক ও দেশীয় করপোরেট কালচারের মধ্যে একটি বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে সিভিতে ছবির সংযোজনকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। এর মূল কারণ হলো পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্য দূর করা। নিয়োগকর্তারা যাতে প্রার্থীর গায়ের রঙ, চেহারা, বয়স বা লিঙ্গ দেখে প্রভাবিত না হয়ে শুধু যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তাকে মূল্যায়ন করতে পারেন, সে জন্যই আন্তর্জাতিকভাবে সিভিতে ছবি না রাখার নিয়ম বা ব্লাইন্ড রিক্রুটমেন্ট নীতি অনুসরণ করা হয়।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক চাকরির বাজার বিশ্লেষণ করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। আমাদের দেশের করপোরেট কালচারে সিভিতে ছবি দেওয়াকে এখনো একটি স্ট্যান্ডার্ড বা প্রচলিত নিয়ম হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক নিয়োগকর্তা প্রার্থীর মার্জিত চেহারা এবং পেশাদার উপস্থাপনা দেখার জন্য ছবি আশা করেন। বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস, ফ্রন্ট ডেস্ক, পাবলিক রিলেশনস বা সেলসের মতো কর্মক্ষেত্রে; যেখানে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, সেখানে প্রার্থীর বাহ্যিক উপস্থাপনা একটি ভূমিকা রাখে। তাই বাংলাদেশের অধিকাংশ কোম্পানি তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর কথা উল্লেখ করে থাকে।
এই পরিস্থিতির সঠিক সমাধান হলো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের ধরন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বহুজাতিক কোম্পানিতে আবেদন করলে প্রতিষ্ঠান যা চাচ্ছে, তা-ই অনুসরণ করুন। অন্যদিকে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানে আবেদনের ক্ষেত্রে সেখানে ছবির কথা বলা থাকলে অবশ্যই একটি পেশাদার, মার্জিত পোশাক পরিহিত এবং হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি যুক্ত করবেন। সিভিতে ক্যাজুয়াল ছবি বা সেলফি ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, এটি প্রার্থীর পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ন করে।






