এশিয়ায় শীর্ষে, বিশ্বে ষষ্ঠ
গ্রিন ইউনিভার্সিটির মার্স রোভার

তুরস্কে বিবেক দত্ত, শাহারিয়ার মাহমুদ, বিশাল দত্ত, শাহরিয়ার বিন সালাম, আবদুল্লাহ-আল মাসুদ, মঈনুল হাসান ও রেজওয়ান ইন্তেসার
একটি স্বপ্ন, কিছু তরুণের সাহস আর শেষ পর্যন্ত হাল না ছাড়ার মানসিকতা— এই তিনের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (জিইউবি) মার্স রোভার টিম। ২৯ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ (এআরসি) ২০২৬-এ বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ এবং এশিয়ার মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে দলটি। প্রতিযোগিতা জুড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, অধ্যবসায় এবং দলগত চেতনার স্বীকৃতি হিসেবে জিইউবি মার্স রোভার টিম পেয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘মোস্ট রেজিলিয়েন্ট টিম’ (‘সবচেয়ে স্থিতিস্থাপক দল’) সম্মাননাও।
এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই। একটি মার্স রোভার তৈরি করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন থেকেই যাত্রাটি শুরু হয়েছিল। দলের মেন্টর ছিলেন আবদুল্লাহ-আল মাসুদ। তুরস্কের প্রতিযোগিতায় মাঠে ছিলেন ছয়জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে স্টুডেন্ট টিম লিড রেজওয়ান ইনতেসার ও ম্যানেজমেন্ট সাব-টিম লিড শাহরিয়ার বিন সালাম শিক্ষার্থী পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। আরও অংশ নেন সফটওয়্যার অ্যান্ড অটোনমাস সাব-টিম লিড ময়নুল হাসান, মেকানিক্যাল ডিজাইন সাব-টিম লিড বিবেক দত্ত, মেকানিক্যাল ফেব্রিকেশন সাব-টিম লিড বিশাল দত্ত এবং ইলেকট্রিক্যাল সাব-টিম লিড মো. শাহরিয়ার মাহমুদ। বাংলাদেশ থেকে দলের কাজে যুক্ত ছিলেন মিডিয়া অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং সাব-টিম লিড সাফি আলম এবং সায়েন্স সাব-টিম লিড আফরিন আক্তারসহ অন্য সদস্যরা।
এই প্রতিযোগিতায় বাস্তবসম্মত মহাকাশ মিশনের আদলে বিভিন্ন জটিল চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দলগুলোর রোভারের নকশা, স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দলগত সমন্বয় যাচাই করা হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জিইউবি শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বললেন, ‘এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, প্রকৌশল শিক্ষা এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সক্ষমতার একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গবেষণা, রোবোটিকস, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকাশে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টারই গৌরবময় প্রতিফলন এই সাফল্য।’






