বয়স ৬০ হলে যে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত

নিয়মতান্ত্রিক জীবন ড. আবু সাঈদকে ৭৯ বছর বয়সেও দারুণ ফিট রেখেছে ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
বয়স যখন ৬০ তখন শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা পরিশ্রম করা কারও কারও জন্য তখন কঠিন হয়ে যায়। অনেকেই এসব পরিবর্তনকে বয়সের স্বাভাবিক প্রভাব ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো শুধু বয়সের দোষ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসা গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আবু সাঈদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। তবে সক্রিয় জীবনযাপন এসব পরিবর্তনের গতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৬০ বছরের পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়াকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। অধ্যাপক আবু সাঈদ বললেন, এ ধরনের ঘটনা ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক বা টিআইএ-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকির একটি সতর্কসংকেত হতে পারে।
ফ্যাটি লিভার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা না পড়লে তা লিভার সিরোসিসে পরিণত হতে পারে
অল্প হাঁটলেই শ্বাসকষ্ট: আগে যে দূরত্ব অনায়াসে হাঁটা যেত, এখন অল্প হাঁটলেই যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, সেটিও অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতায় সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার। অধ্যাপক আবু সাঈদের মতে, অল্প হাঁটলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
পেট ফাঁপা ও অরুচির সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন: অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে যদি পেট ফাঁপা, খাওয়ার পর অস্বস্তি এবং খাবারে অরুচি দেখা দেয়, তাহলে তা ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ হতে পারে। ড. আবু সাঈদের মতে, ফ্যাটি লিভার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা না পড়লে তা লিভার সিরোসিসে পরিণত হতে পারে।
বয়স ৬০ পেরোনো মানেই অসুস্থ হয়ে পড়া নয়; বরং এ বয়সে শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলোর দিকেও একটু বেশি নজর দেওয়া দরকার। নিয়মিত হাঁটাচলা, পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা— এসব অভ্যাস প্রবীণ বয়সেও সক্রিয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে শুধু ‘বয়স হয়েছে’ বলে এড়িয়ে না যাওয়া।






