ফিটনেস
নাচতে নাচতে শরীরচর্চা

ছবি: আগামীর সময়
তুলনামূলকভাবে নতুন ধারণা হলেও ওয়ার্কআউট হিসেবে জুম্বার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এর চর্চার সঠিক কৌশল জানাচ্ছেন সার্টিফায়েড ইয়োগা, অ্যারোবিকস ও জুম্বা ট্রেইনার সুরাইয়া নিতু
কিছুদিন আগেও ব্যায়াম বললে সবাই বুঝত ট্রেডমিল, ডাম্বেল বা কঠিন শরীরচর্চা। সেই ধারণা বদলেছে। ফিটনেসের সঙ্গে মানুষ আনন্দও খুঁজছে। তাই মিউজিকের তালে নাচতে নাচতে শরীরচর্চার পদ্ধতি জুম্বা অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে স্বস্তির জায়গা।
এটি মূলত লাতিন ও আন্তর্জাতিক মিউজিকের সঙ্গে করা একধরনের ফিটনেস ড্যান্স। সালসা, মেরেঙ্গে, রেগেটন, হিপহপ— বিভিন্ন নাচের মুভমেন্ট মিলিয়ে তৈরি হয় একটি হাই-এনার্জি ওয়ার্কআউট। কিন্তু একে শুধু নাচ বললে ভুল হবে; কারণ, এক ঘণ্টার একটি জুম্বা সেশন পুরো শরীরকে সক্রিয় করে তোলে।
উপকারিতা: নিয়মিত জুম্বা করলে শরীরের ক্যালরি দ্রুত বার্ন হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে এটি হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে এবং স্ট্যামিনার উন্নতি ঘটায়। যারা দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে কাজের। কারণ, সারা দিনের স্থিরতার পর জুম্বা শরীরকে আবার সচল করে তোলে। তবে এই শরীরচর্চার জনপ্রিয়তার বড় কারণ শুধু শারীরিক উপকারিতা নয়; বরং এর মানসিক প্রভাব। ব্যস্ত জীবন, সামাজিক চাপ, উদ্বেগ— সব মিলিয়ে অনেকেই মানসিক ক্লান্তি বা অবসাদে ভোগেন। জুম্বার মিউজিক, গ্রুপ এনার্জি আর নাচের ছন্দ সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
এখানে কেউ পারফেক্ট নাচ করতে আসেন না; বরং লক্ষ্য থাকে ঘাম ঝরিয়ে প্রশান্তি অনুভব করা
জুম্বার আরেকটি বড় সুবিধা হলো, বয়সভেদে এর চর্চা ভিন্নভাবে করা যায়। তরুণদের জন্য যেমন হাই-এনার্জি সেশন থাকে, তেমনি বয়স্কদের জন্য লো-ইমপ্যাক্ট জুম্বাও আছে। এমনকি শিশুদের জন্যও আলাদা জুম্বা ক্লাস পরিচালিত হয়। ফলে এটি ধীরে ধীরে পারিবারিক ফিটনেস কালচারের অংশ হয়ে উঠছে।
যারা জিমে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন কিংবা একঘেয়ে ব্যায়ামে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তাদের জন্য জুম্বা অনেক বেশি স্বাভাবিক ও উপভোগ্য শরীরচর্চা। এখানে কেউ পারফেক্ট নাচ করতে আসেন না; বরং লক্ষ্য থাকে শরীরকে মুভ করানো, ঘাম ঝরানো এবং মানসিকভাবে প্রশান্তি অনুভব করা।
খাবারদাবার: জুম্বা চর্চার ক্ষেত্রে খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হয়। কেননা খালি পেটে এর চর্চা করলে অনেক সময় দুর্বল লাগতে পারে, আবার ভারী খাবার খেয়েও অনুশীলন করা ঠিক নয়। বরং হালকা খাবার ও পর্যাপ্ত পানি শরীরকে এনার্জি দেয়।
সময়সীমা: সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন ৪৫ মিনিট করে জুম্বা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত এর চর্চা করা। কয়েক দিন অনুশীলন করে ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। তাই মনস্থির করে প্রথমে অল্প সময় নিয়ে অনুশীলন করা ভালো। শরীর-মন মানিয়ে গেলে ধীরে ধীরে সময়সীমা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
সতর্কতা: যেহেতু এটি উচ্চগতির মুভমেন্টভিত্তিক ব্যায়াম, তাই সঠিক ওয়ার্মআপ ছাড়া শুরু করা উচিত নয়। হাঁটু, গোড়ালি বা পিঠে সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অনেকেই শুরুতে অতিরিক্ত এনার্জি নিয়ে কঠিন স্টেপ করার চেষ্টা করেন, এতে ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে। তাই ধীরে শুরু করাই মঙ্গল। এর চর্চায় পোশাক নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। আরামদায়ক ও ঘাম শোষণ করে— এমন পোশাক এবং ভালো গ্রিপের স্পোর্টস শু ব্যবহার করা উচিত। কারণ, ভুল জুতা হাঁটু ও গোড়ালিতে চাপ ফেলতে পারে।






