সাজপোশাক
কাটে-ছাঁটে হালফ্যাশন

মডেল: মনোয়ারা জলি, পোশাক: রঙ বাংলাদেশ, সাজ: পারসোনা, কৃতজ্ঞতা: স্টুডিও ক্যানভাস, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
শার্টের আদলে টপ, প্যান্টে স্কার্টের ঘের আর কাটে আন্তর্জাতিক ফিউশনের ছোঁয়ায় সমকালীন পোশাক। দেশেও বইছে এমন ট্রেন্ডের হাওয়া। লিখেছেন রেজাউল আহমেদ
ফ্যাশনের ভাষা বদলায় পোশাকের কাটে, সিলুয়েটে আর ছোট ছোট নকশার খেলায়। কখনো পরিচিত শার্টই হয়ে ওঠে আধুনিক টপ, কখনো প্যান্টের ঘেরে মিশে যায় স্কার্টের আবহ। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে প্রশস্ত প্যান্ট, স্বাচ্ছন্দ্য টেইলারিং ও নতুন অনুপাতের পোশাক দীর্ঘদিন ধরেই নানা রূপে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা পোশাকের পরিচিত গড়নের সঙ্গে ভিন্নধর্মী কাট ও নকশার সমন্বয়ে তৈরি এই ধারায় গুরুত্ব পাচ্ছে পোশাকের অবয়ব, কাপড়ের বিন্যাস ও পরার স্বাচ্ছন্দ্য— জানালেন রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার ও ডিজাইনার সৌমিক দাস।
শার্টের ছাঁটে টপ
শার্টের কলার, বোতাম ও হাতার পরিচিত গড়ন নারীদের পোশাকে নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা কাটে। কখনো কোমর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য, কখনো ক্রপড অবয়ব, আবার কখনো কোমরের কাছে বিশেষ ফিটিং। নকশার এসব বৈচিত্র্যে শার্টের চেনা রূপেই যোগ হচ্ছে আধুনিকতা। জ্যামিতিক মোটিফ, সূক্ষ্ম প্রিন্ট কিংবা কাপড়ের বুননেও ফুটে উঠছে ডিজাইনের মুনশিয়ানা।
এ ধরনের টপের সঙ্গে প্রশস্ত প্যান্টের সমন্বয়ে তৈরি হয় ভারসাম্যপূর্ণ সিলুয়েট। ওপরের অংশের পরিপাটি গড়ন আর নিচের অংশের ছড়িয়ে পড়া ঘের পোশাকে আনে ভিন্ন মাত্রা। হালকা রঙের জমিনে জ্যামিতিক নকশার টপের সঙ্গে ধূসর-নীল প্যান্টের মতো সংযত রঙের সমন্বয়েও ফুটে ওঠে এই ধারার সৌন্দর্য। অবশ্য এখানে পোশাকের আকর্ষণ নির্ভর করে রঙের জাঁকজমকের চেয়ে কাট ও নকশার বিন্যাসের ওপর।
প্যান্টে স্কার্টের ঘের
প্রশস্ত প্যান্টের ফ্যাশন নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে এর দৈর্ঘ্য, ঘের ও কাটে পরিবর্তন এসেছে। কখনো কোমরের কাছ থেকে সোজা নেমে আসা গড়ন, কখনো নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়া অবয়ব। এমন নানা নকশায় ফিরে এসেছে এই ধারা। এরই একটি পরিচিত রূপ কুলোটস, যা স্কার্টের মতো ঘেরের সঙ্গে প্যান্টের ব্যবহারিক সুবিধা মিলিয়ে তৈরি। কুলোটসের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফরাসি পোশাকের ইতিহাস। একসময় হাঁটু পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের প্যান্ট বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হতো। পরে পোশাকটির গড়ন ও ব্যবহার বদলেছে। নারীদের পোশাকে প্রশস্ত প্যান্টের জনপ্রিয়তার সঙ্গে এরও নানা রূপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হাঁটুর নিচে থেমে যাওয়া মাঝারি দৈর্ঘ্যের কুলোটস থেকে শুরু করে গোড়ালির ওপর পর্যন্ত লম্বা প্রশস্ত প্যান্ট— দুটিই দেখা যায় ফ্যাশনে। স্কার্টের মতো ছড়িয়ে পড়া ঘের এই প্যান্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোমরের কাছে পরিপাটি ফিটিংয়ের পর নিচের অংশে কাপড়ের ভাঁজ ও প্রশস্ততা তৈরি করে আলাদা অবয়ব। কোথাও সাধারণ কাট, কোথাও জ্যামিতিক নকশা, এমব্রয়ডারি কিংবা ভিন্ন কাপড়ের প্যানেল যুক্ত হয়ে বৈচিত্র্য আনে। ফলে একই ধরনের প্যান্টেও তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল।
কখনো কোমর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য, কখনো ক্রপড অবয়ব, আবার কখনো কোমরের কাছে বিশেষ ফিটিং। নকশার এসব বৈচিত্র্যে শার্টের চেনা রূপেই যোগ হচ্ছে আধুনিকতা
কো-অর্ড সেটের সমন্বয়
টপ ও বটমের নকশা, রঙ কিংবা কাপড়ের মধ্যে মিল রেখে তৈরি পোশাকের সেটকে বলা হয় কো-অর্ড সেট। ফ্যাশনে এর ব্যবহার বেশ পরিচিত। একই রঙের টপ ও প্যান্টে তৈরি হয় একটানা সিলুয়েট আর একই নকশার কাপড়ে আসে সমন্বিত চেহারা। কখনো কাটের বৈপরীত্য, কখনো কাপড়ের নকশায় মিল। এই দুয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয় পোশাকের স্বতন্ত্র আবেদন। শার্টের আদলের টপের সঙ্গে স্কার্ট-অনুপ্রাণিত প্রশস্ত প্যান্টের সমন্বয়েও কো-অর্ডের এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। ওপরের অংশে কলার ও বোতামের মতো টেইলারিংয়ের উপাদান পোশাককে দেয় পরিপাটি চেহারা আর নিচের অংশের প্রশস্ত ঘের যোগ করে স্বচ্ছন্দ গড়ন। জ্যামিতিক নকশা বা কাপড়ের ভাঁজ— এ দুই অংশের মধ্যে তৈরি করে নান্দনিক সংযোগ।
স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে
প্রশস্ত প্যান্টের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর স্বাচ্ছন্দ্য গড়ন। শরীরের সঙ্গে অতিরিক্ত লেগে থাকে না বলে হাঁটাচলা ও বসার সময় আরাম পাওয়া যায়। তবে পোশাকের স্বাচ্ছন্দ্য নির্ভর করে কাপড়, কোমরের মাপ, দৈর্ঘ্য ও সেলাইয়ের ওপরও। সুতি ও লিনেনের মতো হালকা কাপড়ে তৈরি প্যান্ট গরমের দিনে পরার জন্য উপযোগী। অন্যদিকে একটু ভারী বা কাঠামোবদ্ধ কাপড়ে প্যান্টের ঘের ও ভাঁজ স্পষ্ট হয়। নরম, ঝরঝরে কাপড়ে তৈরি পোশাকে আসে প্রবহমান রূপ। পোশাকের কাট অনুযায়ী কাপড় বেছে নিলে নকশা যেমন ভালোভাবে ফুটে ওঠে, তেমনি পরতেও আরাম লাগে।
উপলক্ষ অনুযায়ী সাজ
প্রশস্ত প্যান্ট ও শার্ট-ধাঁচের টপ বিভিন্ন উপলক্ষে পরা যায়। অফিসের অনানুষ্ঠানিক দিনে নিরপেক্ষ রঙের টপের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধ প্যান্ট, লোফার ও ছোট কানের দুল মানানসই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা কেনাকাটার সময় জ্যামিতিক নকশার টপ, ডেনিম কুলোটস ও স্নিকার্সে তৈরি হতে পারে স্বাচ্ছন্দ্য সাজ। সন্ধ্যার আয়োজনের জন্য বেছে নেওয়া যায় ঝরঝরে কাপড়ের প্যান্ট, নকশাদার টপ, নজরকাড়া কানের দুল ও ছোট ব্যাগ। ভ্রমণে এ ধরনের পোশাক পরতে চাইলে কাপড়ের আরাম ও প্যান্টের দৈর্ঘ্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ঘের বেশি হলে হাঁটার সময় কাপড় যেন জুতায় আটকে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা ভালো।
অনুষঙ্গে ব্যক্তিত্ব
পোশাকের কাট ও নকশা নজরকাড়া হলে অনুষঙ্গে মিল রাখলে পারিপাট্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। জ্যামিতিক নকশার টপের সঙ্গে ছোট কানের দুল, ঘড়ি কিংবা সাধারণ ব্রেসলেট মানানসই। একরঙা পোশাকে বড় কানের দুল বা নকশাদার ব্যাগ যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা। জুতার ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট, লোফার, স্নিকার্স কিংবা হিল— সবই হতে পারে মানানসই। তবে এসব নির্ভর করবে পোশাকের দৈর্ঘ্য ও পরার উপলক্ষের ওপর। চুলের সাজেও পোশাকের গড়ন বিবেচনায় রাখা ভালো। উঁচু খোঁপা বা পনিটেলে কলার ও কাঁধের নকশা স্পষ্ট হয়। মেকআপে স্বাভাবিক বেস ও পরিমিত চোখের সাজপোশাকের আধুনিক চেহারার সঙ্গে মানিয়ে যায়।



