বিউটি
ত্বকে কাচের ঝলক

মডেল: মাইমুনা ইসলাম দিয়া, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
হালকা বেস, কোমল আভা আর সতেজ রূপসজ্জা— গ্লাস স্কিন মেকআপে গুরুত্ব পায় ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। লিখেছেন ফারিয়া আলম
মুখে মেকআপ আছে, অথচ দেখলে মনে হবে ত্বক ঝলমল করছে। গালে আলোর খেলা, ত্বকে আর্দ্রতার আভা, ঠোঁটে কোমল গোলাপি রঙ— ভারী প্রসাধনীর প্রলেপ নয়; বরং মসৃণ ও সতেজ ত্বকের এমন উপস্থাপনই গ্লাস স্কিন মেকআপের বৈশিষ্ট্য। রূপ বিশেষজ্ঞ নিশাত আদনান তারিক জানালেন, কোরিয়ান সৌন্দর্যচর্চা থেকে জনপ্রিয় হওয়া এই রূপসজ্জায় ত্বকের প্রস্তুতি, হালকা বেস ও পরিমিত উজ্জ্বলতা— সবকিছুরই রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।
প্রথম ধাপে ত্বকের প্রস্তুতি
গ্লাস স্কিন মেকআপের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে ত্বক কতটা ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, তার ওপর। প্রথমে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা গ্লিসারিনযুক্ত সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। এগুলো ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক। শুষ্ক ত্বকে ক্রিমজাতীয় ময়েশ্চারাইজার এবং তৈলাক্ত ত্বকে হালকা জেল বা লোশন ভালো বিকল্প। দিনের সাজে ময়েশ্চারাইজারের পর সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি। পরের ধাপে যাওয়ার আগে প্রসাধনীগুলো ত্বকে বসতে কিছুটা সময় দেওয়া দরকার।
প্রাইমার ও ফাউন্ডেশনে হালকা ছোঁয়া
ত্বকে কোমল উজ্জ্বলতা আনতে ব্যবহার করা যায় হাইড্রেটিং বা লুমিনাইজিং প্রাইমার। এরপর হালকা থেকে মাঝারি কাভারেজের ডিউই ফিনিশ ফাউন্ডেশনের ছোঁয়া দিন। চাইলে স্কিন টিন্টও ব্যবহার করতে পারেন। মুখের মাঝখান থেকে বাইরের দিকে ফাউন্ডেশন ছড়িয়ে দিতে হবে। ভেজা মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে বসালে বেস ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। কোথাও বেশি কাভারেজ প্রয়োজন হলে সেখানে অল্প ফাউন্ডেশন যোগ করুন। পুরু স্তর তৈরি না করে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখাই এই সাজের মূল কৌশল। চোখের নিচের কালচে ভাব কিংবা ব্রণের দাগ ঢাকতে ব্যবহার করতে পারেন কনসিলার। তবে প্রয়োজনের বেশি ব্যবহার করলে সূক্ষ্ম রেখায় প্রসাধনী জমে যেতে পারে।
গালে শিশিরের সিক্ততা
গ্লাস স্কিন সাজে গালের সতেজ আভা আনতে ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ধরন ও সাজের সঙ্গে মানিয়ে বেছে নিন গোলাপি, পিচ কিংবা প্রবাল রঙ। গালের যে অংশে স্বাভাবিকভাবে লালচে আভা ফুটে ওঠে, সেখানে অল্প ব্লাশ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। গালের হাড়ের ওপরের অংশে সামান্য লিকুইড বা ক্রিম হাইলাইটার ব্যবহার করলে আলো প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে। নাকের ওপরের অংশেও অল্প হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন। তবে মুখের সব জায়গায় এটি ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত দেখাতে পারে। ত্বকে ব্রণের গর্ত বা অমসৃণ গঠন থাকলে সেই অংশে হাইলাইটার এড়িয়ে চলাই ভালো।
চোখ ও ঠোঁটে কোমলতা
মুখের বেস উজ্জ্বল থাকায় চোখ ও ঠোঁটের সাজে ভারসাম্য রাখা জরুরি। চোখের পাতায় হালকা বাদামি, পিচ বা গোলাপি আইশ্যাডো, পাতলা আইলাইনার ও মাশকারা ব্যবহার করা যায়। ভ্রুতে আলতো করে পেনসিল বা জেল দিলে চোখের সৌন্দর্য আরও ফুটে উঠবে। ঠোঁটে গোলাপি, পিচ, ন্যুড কিংবা হালকা বাদামি লিপস্টিক মানানসই। ঠোঁটের মাঝখানে সামান্য লিপ গ্লস ব্যবহার করলে আসবে সতেজ ভাব। সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে চোখের সাজ কিছুটা গাঢ় করে ঠোঁটের জন্য বেছে নিতে পারেন পছন্দের উজ্জ্বল রঙ।
দিনের সাজ থেকে উৎসব
প্রতিদিনের সাজে হালকা ফাউন্ডেশন, পিচ ব্লাশ, মাশকারা ও ন্যুড লিপস্টিকেই তৈরি হতে পারে গ্লাস স্কিনের আবহ। উৎসবের সাজে যোগ করা যায় একটু বেশি কাভারেজ, উজ্জ্বল ব্লাশ ও হাইলাইটার। তবে মনে রাখতে হবে, গ্লাস স্কিন মেকআপে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি আড়াল করার চেষ্টা করা হয় না। অতিরিক্ত প্রসাধনী নয়; বরং ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া, আলতো পরশে মেকআপ করা এবং পরিমিত উজ্জ্বলতা বজায় রাখাই এই রূপচর্চার আসল সৌন্দর্য।
মেকআপ ধরে রাখার কৌশল
- গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মুখের সব জায়গায় পাউডার দিয়ে ম্যাট করার প্রয়োজন নেই
- নাকের দুই পাশ, কপাল ও থুতনির মতো জায়গায় অল্প ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার ব্যবহার করুন
- গালের উজ্জ্বল অংশে পাউডার কম ব্যবহার করলে শিশিরভেজা আভা বজায় থাকবে
- সবশেষে ব্যবহার করুন মেকআপ সেটিং স্প্রে
- তৈলাক্ত ত্বকে হালকা, নন-কমেডোজেনিক প্রসাধনী বেছে নেওয়া ভালো
- শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার মতো পণ্য বেছে নিন
- নতুন প্রসাধনী ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট জরুরি



