বিউটি
এই শরতে চুলের রিসেট

মডেল: এশা। ছবি: মঞ্জু আলম
বর্ষাকাল শেষ হলে আয়নায় তাকিয়ে মনে হতে পারে, চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। ঋতুবদলের সঙ্গে তাই দরকার চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত রিসেট করে নেওয়া। কীভাবে? জানাচ্ছেন প্রিয়াঞ্জলি রুহি
‘হেয়ার রিসেটের কার্যক্রম শুরু হওয়া উচিত সমস্যা চিহ্নিত করে’— বললেন অরা বিউটি লাউঞ্জের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিষেজ্ঞ নিশাত আদনান তারিক। তার মতে, মাথার ত্বক যদি দ্রুত তেলতেলে হয়ে যায়, কিন্তু চুলের ডগা রুক্ষ থাকে, তাহলে স্ক্যাল্প ও চুলকে একই রুটিনে যত্ন করলে সারবে না। আবার মাথায় চুলকানি, অতিরিক্ত খুশকি, লালচে ভাব বা ক্ষত থাকলে সেটিকে শুধু ড্রাই স্ক্যাল্প ভেবে তেল বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করাও ঠিক নয়। বর্ষার শেষে নিজের চুল তিন ভাগে দেখুন— স্ক্যাল্প, চুলের মাঝের অংশ ও ডগা। কোন অংশে কী সমস্যা, তার ওপরই নির্ভর করবে পরের রুটিন।
চুলের দুর্বলতা দূর: বর্ষার সময় হুটহাট বৃষ্টিতে ভিজতে হয় প্রায় সবাইকে। এ সময়ে ভেজা চুল না শুকানোর ফলে চুলের গোড়া হয়ে পড়ে দুর্বল ও ভঙ্গুর। এ ছাড়া অনেকে তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষেন, ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধেন বা ভেজা চুল নিয়ে ঘুমিয়েও পড়েন। এতে চুলে ক্ষতির প্রবণতা বাড়ে। পড়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। বর্ষা শেষে এসব ক্ষতি সারিয়ে তুলতে নিতে হবে সঠিক যত্নআত্তি।
স্ক্যাল্প ক্লিনজিংয়ে ভুল নয়: বর্ষা শেষে অনেকেই স্ক্যাল্প পরিষ্কার করার জন্য ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার শুরু করেন। এতে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হতে পারে। শ্যাম্পু করার সময় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্ক্যাল্প পরিষ্কার করা। শ্যাম্পু স্ক্যাল্পে আলতো ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। চুলের পুরো দৈর্ঘ্যে আলাদা করে ঘষাঘষির প্রয়োজন নেই। চুল কতবার ধোয়া দরকার, তা নির্ভর করবে স্ক্যাল্প কতটা তেলতেলে, ঘাম হয় কি না এবং আপনি কতটুকু পরিশ্রম করেন বা বাইরে বের হন— তার ওপর।
কন্ডিশনার: শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার শুধু চুল নরম করার জন্য নয়, চুলকে জট ও ঘর্ষণ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতেও সাহায্য করে। কন্ডিশনার সাধারণত চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগায় ব্যবহার করুন; স্ক্যাল্পে প্রয়োগের প্রয়োজন নেই, যদি না নির্দিষ্ট কোনো পণ্যে তা বলা থাকে। বর্ষার পর রুক্ষ বা ফ্রিজি চুল হলে সপ্তাহে একদিন একটি ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের মাস্ক, তেল ও ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করে চুল রিসেট করার চেষ্টা না করাই ভালো।
তেলের ব্যবহার: চুলের যত্নে ব্যবহার করা গেলেও তেলের পক্ষে স্ক্যাল্পের সব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্ক্যাল্প যদি তেলতেলে হয়, খুশকি বা চুলকানি থাকে, তাহলে ঘন ঘন ভারী তেল দিয়ে দীর্ঘসময় রেখে দেওয়া উপকারী নাও হতে পারে। শুষ্ক চুলের ডগায় অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তেল ব্যবহারের পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং কোনো অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
ফ্রিজি ভাব কমাতে: বর্ষার আর্দ্রতায় চুল ফুলে ওঠা বা ফ্রিজি হয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। তাই বর্ষা শেষে শরতের দিনগুলোতে চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ঘষার বদলে নরম মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা পুরনো পরিষ্কার টি-শার্ট দিয়ে আলতো করে চেপে পানি শুকিয়ে নিতে পারেন। ভেজা চুলে মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। বারবার হিট স্টাইলিং, অতিরিক্ত ব্লো-ড্রাই বা স্ট্রেইটনার ব্যবহার কমিয়ে দিন। প্রয়োজন হলে হিট প্রটেক্টর ব্যবহার করতে পারেন।
ডগার যত্ন: চুলের ডগা যদি বারবার ফেটে যায়, রুক্ষ থাকে বা সহজে জট বাঁধে, শুধু সিরাম দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ট্রিম করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্ষা শেষে তাই চুলের ডগা একবার ভালো করে দেখে নিন। প্রয়োজন হলে সামান্য ট্রিম করে নতুনভাবে হেয়ার কেয়ারের রুটিন শুরু করুন।
স্ক্যাল্প ম্যাসাজ: শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহারের সময় আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করতে পারেন। ম্যাসাজকে চুল গজানোর ম্যাজিক ট্রিক হিসেবে নয়; বরং পরিষ্কার করার একটি আরামদায়ক ধাপ হিসেবেই দেখুন। খেয়াল রাখবেন, নখ দিয়ে ঘষাঘষি করলে স্ক্যাল্পে অস্বস্তি বা ক্ষত তৈরি হতে পারে।
বালিশের কভার ও চিরুনি: চুলের রিসেট শুধু চুলে কী প্রয়োগ করছেন— তার ওপর নির্ভর করে না। চিরুনি, হেয়ার ব্রাশ, বালিশের কভার, হেয়ার টাইসহ যেগুলো নিয়মিত চুল ও স্ক্যাল্পের সংস্পর্শে আসে, সেগুলোও পরিষ্কার রাখা দরকার। চিরুনি ও ব্রাশে জমে থাকা চুল, তেল ও ধুলো নিয়মিত সরিয়ে পরিষ্কার করুন। ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো এবং অপরিষ্কার বালিশের কভারে মাথা রাখার অভ্যাস ত্যাগ করা দরকার।
খাবারের গুরুত্ব: শুধু বাইরের যত্নে চুলের সব সমস্যা সমাধান হয় না। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকা দরকার। ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধজাতীয়, বাদাম ও বীজ-বৈচিত্র্যময় খাবার থেকে পুষ্টি নেওয়াই ভালো। চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে গেলে নিজের মতো করে একাধিক সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
খেয়াল রাখুন : অনেকেই চুলকে ডিটক্স করার জন্য লেবু, বেকিং সোডা, ভিনেগার বা নানা ঘরোয়া উপাদান সরাসরি প্রয়োগ করেন। কিন্তু প্রাকৃতিক হলেই সব উপাদান স্ক্যাল্পের জন্য নিরাপদ নয়। অতিরিক্ত অ্যাসিডিক বা ক্ষারীয় উপাদান ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা তৈরি করতে পারে।






