ফ্যাশন
হারেম প্যান্টের বহুমুখী হাওয়া

মডেল: আনিলা তাবাসসুম হৃদি। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
বৃষ্টির দিন বলে থেমে থাকে না কাজ। ব্যস্ত দিনে গৃহবাস কিংবা যাতায়াতের ধকল সামলাতে অনেকেই এমন পোশাক খুঁজছেন, যা একই সঙ্গে স্বস্তিদায়ক ও আধুনিক। এ চাহিদা থেকেই যুক্ত হয়েছে হারেম প্যান্ট। লিখেছেন স্বর্ণা রায়
হারেম প্যান্ট হলো এমন একটি ঢিলেঢালা পোশাক, যার ওপরের অংশ তুলনামূলক চওড়া এবং নিচের দিকে এসে গোড়ালির কাছে সরু বা ইলাস্টিক ব্যান্ডে শেষ হয়। এর নকশার উৎস মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাকধারা হলেও সময়ের সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সুতি, লিনেন, রেয়ন, ভিসকোস কিংবা কটন-ব্লেন্ড কাপড়ে তৈরি হারেম প্যান্ট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কুর্তি, টপ, শার্ট, ক্রপ টপ কিংবা ছোট কুর্তার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় বলে এটি বহুমুখী পোশাক হিসেবে পরিচিত।
আরাম ও ব্যবহারিকতা
আমাদের দেশের আবহাওয়ায় পোশাকের আরামদায়ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন একদিকে গুমোট গরম এবং অন্যদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট কাদামাটি হয়ে যায়, তখন হারেম প্যান্ট বেশ উপযোগী। এমন দিনগুলোয় সুতি ও রেয়নের পাতলা কাপড়ের হারেম প্যান্ট খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই প্যান্টের নিচের অংশ গোড়ালির কাছে চওড়া ইলাস্টিক বা বোতাম দিয়ে আটকানো থাকে। ফলে হাঁটার সময় প্যান্টের নিচের অংশ মাটিতে লুটোপুটি খায় না এবং কাদা লাগার ঝুঁকি কম থাকে। প্রয়োজনে এটি কিছুটা টেনে গোড়ালির ওপর পর্যন্ত তুলে নেওয়া যায়। এই পোশাক ঢিলেঢালা হওয়ায় বাতাস চলাচল করতে পারে এবং শরীর শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে।
রকমফের
বাজারে বিভিন্ন কাট ও কাপড়ের হারেম প্যান্ট সহজলভ্য। ব্যবহারের সুবিধা অনুযায়ী এর বেশ কিছু ধরন রয়েছে, যেমন— ধুতি হারেম, ক্ল্যাসিক হারেম, জিপসি বা বোহেমিয়ান হারেম ও ফর্মাল বা সেমি-ফর্মাল হারেম। ধুতি হারেম দেখতে অনেকটা ভারতীয় ধুতি প্যান্টের মতো। কোমরের কাছ থেকে কুচি দিয়ে নিচের দিকে নেমে যায়। ক্ল্যাসিক হারেম প্যান্টে ইলাস্টিক কোমর থেকে সমান ও ঢিলেঢালাভাবে শুরু হয়ে গোড়ালির কাছে শেষ হয়। সাধারণত নানা রঙের ব্লক প্রিন্ট বা বাটিকের কাপড় দিয়ে তৈরি হয় জিপসি বা বোহেমিয়ান হারেম। এতে অতিরিক্ত পকেট থাকে। আবার ফর্মাল বা সেমি-ফর্মাল হারেম লিনেন বা সিন্থেটিক মিশ্রিত কাপড়ে তৈরি হয়। অফিসে পরার উপযোগী করে নকশা হয়ে থাকে এগুলোর। তাই এতে খুব বেশি কুচি বা ঘের থাকে না।
বর্তমানে তরুণীরা ছোট কুর্তি ক্রপ টপ কিংবা ক্যাজুয়াল টি-শার্টের সঙ্গে হারেম প্যান্টের ম্যাচিং করছেন। এক রঙের পাশাপাশি চেক, স্ট্রাইপ ও ফ্লোরাল প্রিন্টের হারেম প্যান্টের চল এখন তুঙ্গে
চলতি ফ্যাশনে
হাল ফ্যাশনে ফিউশন ঘরানার পোশাকের বেশ কদর রয়েছে। হারেম প্যান্ট সেই ফিউশন ফ্যাশনের একটি বড় অংশ। বর্তমানে তরুণীরা ছোট কুর্তি, ক্রপ টপ কিংবা ক্যাজুয়াল টি-শার্টের সঙ্গে হারেম প্যান্টের ম্যাচিং করছেন। এক রঙের পাশাপাশি চেক, স্ট্রাইপ ও ফ্লোরাল প্রিন্টের হারেম প্যান্টের চল এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে, তরুণদের ক্যাজুয়াল ফ্যাশনেও হালকা রঙের সুতি হারেম প্যান্টের সংযোজন দেখা যাচ্ছে, যা কুর্তা বা ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।
দেশি সংগ্রহ
বাংলাদেশের প্রায় সব জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডেই হারেম প্যান্টের সংগ্রহ রয়েছে। আড়ংয়ে কটন, খাদি ও হ্যান্ডলুম কাপড়ে তৈরি সাদামাটা এবং ব্লক প্রিন্টের নকশা পাওয়া যায়। সারা লাইফস্টাইল ও রঙ বাংলাদেশ বর্ষা উপযোগী উজ্জ্বল ও মাটিরঙা শেডের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্টেড হারেম প্যান্ট বাজারে এনেছে। এ ছাড়া অঞ্জন’স, দেশাল, কে ক্র্যাফট, বিবিয়ানা ও ইনফিনিটিতেও বিভিন্ন কাট, রঙ ও কাপড়ের হারেম প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম এবং ছোট উদ্যোক্তারাও হ্যান্ডমেড ও বুটিকধাঁচের হারেম প্যান্ট বিক্রি করছেন, যেখানে দেশীয় তাঁতের কাপড় ও ব্লক প্রিন্টের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
দরদাম
কাপড়, নকশা এবং ব্র্যান্ডভেদে এমন প্যান্টের দাম ভিন্ন হয়। সাধারণ সুতি বা কটন হারেম প্যান্ট ৭০০-১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। উন্নতমানের ভিসকোস, লিনেন বা খাদি কাপড়ে তৈরি নকশার প্যান্টের দাম সাধারণত ১৫০০-২৫০০ টাকার মধ্যে থাকে। হ্যান্ডলুম, ব্লক প্রিন্ট বা কারুশিল্পসমৃদ্ধ কিছু সংগ্রহের দাম ৩ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। অনলাইন স্টোরগুলোয় প্রায়ই মৌসুমি ছাড় থাকায় তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পণ্য কেনার সুযোগ থাকে।
ব্যবহারের আগে-পরে
এই প্যান্ট বেশ ঢিলেঢালা হয় বলে এর সঙ্গে টপস, শার্ট বা টি-শার্ট তুলনামূলকভাবে ফিটিং বা সোজা কাটের হওয়া ভালো; অন্যথায় পুরো অবয়ব অযাচিতভাবে কিছুটা ভারী দেখাতে পারে। পোশাকটির সঙ্গে মানানসই জুতা বাছাইও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফ্ল্যাট জুতা, কোলাপুরি চটি, নাগরা কিংবা ক্যাজুয়াল স্নিকার্স ভালো মানালেও হাই হিল এড়িয়ে চলা শ্রেয়। অন্যদিকে রেয়ন বা লিনেন কাপড়ের প্যান্ট প্রথমবার আলাদা ধোয়া ভালো; কারণ এতে কিছুটা রঙ ছাড়ার ঝুঁকি থাকে। কড়া রোদের বদলে ছায়ায় শুকালে কাপড়ের রঙ দীর্ঘস্থায়ী হয়। সুতি ও লিনেন প্যান্ট ব্যবহারের পর দ্রুত কুঁচকে যায় বলে পরার আগে হালকা ইস্ত্রি করে নিলে এর কুঁচি ও ভাঁজগুলো পরিপাটি দেখায়।





