ডিপওয়ার্কে সহযোগিতা করবে যে কৌশল

পমোডোরো টেকনিক
একটা সময় ছিল যখন কঠোর পরিশ্রমকে সফলতার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হতো। কিন্তু এখন হার্ডওয়ার্কের বদলে স্মার্টওয়ার্ককে উৎসাহিত করা হয়। স্মার্টওয়ার্কের একটি ধরন হলো ডিপওয়ার্ক। পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করাকেই সহজ ভাষায় ডিপ ওয়ার্ক বলা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ডিপওয়ার্ক খুবই উপকারি। কিন্তু স্মার্টফোনের এই যুগে নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। মনোযোগ ধরে রাখতে ডিপওয়ার্কের সময় ব্যবহার করা যেতে পারে পমোডরো টেকনিক।
পমোডোরো ইতালিয়ান শব্দ, এর অর্থ টমেটো। পমোডোরো টেকনিকের আবিষ্কারক ফ্রান্সিসকো সিরিল্লো। তিনি নিজে এই টেকনিক ব্যবহার করার সময় টমেটো আকৃতির একটি টাইমার ব্যবহার করতেন বলে টেকনিকটির নাম দেন পমোডোরো টেকনিক।
পমোডরো টেকনিক
এই টেকনিকে একটি বড়কাজকে কয়েকটি ছোট ছোট ভাগ করা হয়। ছোট ছোট কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়, দ্রুত ক্লান্তি ভর করে না, দীর্ঘসূত্রতা দানা বাঁধতে পারে না। শিক্ষার্থীরা পমোডরো টেকনিক অবলম্বন করে সহজেই যেকোনো কঠিন বিষয় রপ্ত করতে পারবেন।
কয়েকটি ধাপে পমোডরো টেকনিকের একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপ
যে কাজটি গভীর মনোযোগের সঙ্গে সম্পন্ন করতে চান সেই কাজের জন্য মোট কত সময় লাগতে পারে তা অনুমান করে নেবেন।
দ্বিতীয় ধাপ
কাজের জন্য যতটুকু সময় লাগতে তাকে ২৫ মিনিটের প্রয়োজনীয় কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত করুন। প্রতিটি ২৫ মিনিটের পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন।
তৃতীয় ধাপ
এভাবে ৫টি ২৫ মিনিটের চক্র পূর্ণ হলে ২৫ মিনিটের একটি বড় বিরতি নিন। ব্যস হয়ে গেল একটি পমোডোরো সেট। একটি পমোডোরো সেট সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনে পুনরায় ২৫ মিনিটের চক্র শুরু করতে পারেন। এভাবে যতবার পমোডোরো সেট পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হয় ততবার পুনরাবৃত্তি করবেন।
এই টেকনিক ব্যবহার করতে তোমার দরকার হবে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি। যেটি ২৫ মিনিট পরপর অ্যালার্ম দিয়ে বিরতি নিতে সতর্ক করবে। তবে যদি স্মার্টফোন ব্যবহার করা হয় তাহলে খুব সহজেই পমোডোরো অ্যাপস ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
খেয়াল রাখুন
ডিপ ওয়ার্কের একটি সূত্র হলো, মাল্টিটাস্কিং বা একসঙ্গে একাধিক কাজে ব্যস্ত থাকা চলবে না। পমোডোরো টেকনিক ব্যবহারের সময় তাই নিজেকে একাধিক কাজে ব্যস্ত রাখা যাবে না।
পমোডোরো টেকনিক ব্যবহার করার সময় সময়ের হিসেব রাখতে ঘড়ি নয়, টাইমার ব্যবহার করবেন। নইলে ঘড়ির দিকে লক্ষ্য রাখতে গিয়ে সময়ের অপচয় এবং মনোযোগ বিঘ্নিত হতে পারে।
৫ মিনিটের বিরতি যেন ৫ মিনিটেই শেষ হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন। এ সময় চুপচাপ বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। ফোন হাতে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং-এ ব্যস্ত হয়ে পড়া চলবে না।
পমোডোরো টেকনিক ব্যবহারের সময় যেন কেউ বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজের জায়গা নির্বাচন করুন।

