বান্দরবানে কেএনএফের বিশাল সশস্ত্র দল প্রবেশের দাবিটি মিথ্যা

ছবি: আগামীর সময়
গত ৭ আগস্ট ‘@SarwarWassel’ নামের একটি এক্স (X) অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়— আগের দিন সীমান্ত অতিক্রম করে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) একটি বিশাল সশস্ত্র দল বান্দরবানের পাহাড়ে প্রবেশ করেছে। পোস্টে কেএনএফ এবং অন্যান্য পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দাবির সমর্থনে ব্যবহৃত ভিডিওটি বান্দরবানে কেএনএফের প্রবেশের কোনো দৃশ্য নয়; বরং এটি মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুরোনো ফুটেজ।
ভিডিওর মূল উৎস ও সীমান্ত পরিস্থিতির খবর
ভিডিওটির কি-ফ্রেম কেটে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালানো হলে দেখা যায়, একই ফুটেজ গত ২ জুলাই ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এ ‘মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলা, সীমান্ত ছাড়ছে আরাকান আর্মি’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওর দৃশ্যটি মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যদের, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী কেএনএফের নয়। (যদিও বাংলাদেশ প্রতিদিন উল্লেখ করেছিল যে ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি)। সে সময় টেকনাফ ও কক্সবাজার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল।
এ নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়। একই দিনে (২ জুলাই) ‘জাগো নিউজ’ (ইংরেজি সংস্করণ) ‘Fresh Myanmar junta airstrikes in Rakhine shake Teknaf border’ এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ‘Four powerful blasts heard from Myanmar trigger panic along Teknaf border’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিকট বিস্ফোরণ ও মর্টার শেলের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন।
প্রাপ্ত সকল তথ্য বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘সীমান্ত পেরিয়ে কেএনএফের বিশাল সশস্ত্র দল বান্দরবানে প্রবেশ করেছে’ সংক্রান্ত দাবিটি ভুয়া। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সক্রিয় ভিন্ন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুরোনো ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন করে সশস্ত্র অনুপ্রবেশের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।






