লন্ডনে গ্রেপ্তার হননি হাসনাত আব্দুল্লাহ

ছবি: আগামীর সময়
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে মারামারির মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই দাবির সঙ্গে কয়েকটি ছবিও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ সদস্যদের একজন ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটির কোনো সত্যতা নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহ লন্ডনে গ্রেপ্তার হননি; বরং দাবির পক্ষে থাকা ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
অপপ্রচারের সূত্রপাত ও ভাইরাল পোস্ট
‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ এর মাধ্যমে জানা যায়, ‘টিম ১৯৭১’ নামের একটি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে প্রথম এই দাবি ও ছবিগুলো পোস্ট করা হয়। এরপর পোস্টটি দ্রুত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ব্যবহারকারী তা শেয়ার করেন। পোস্টটিতে অনেক মন্তব্যও দেখা গেছে, যেখানে সাধারণ নেটিজেনদের অনেকেই এই ভুয়া দাবিটিকে সত্য মনে করে বিভ্রান্তিকর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও এআই শনাক্তকরণ
প্রচারিত ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে উন্নত ডিজিটাল টুল এবং ‘হাইভ মডারেশন’ (Hive Moderation)-সহ একাধিক বিশ্বস্ত এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা করা হয়। স্বয়ংক্রিয় এই প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যে, ছবিগুলো বাস্তব নয়। টুলগুলোর ডেটা অনুযায়ী, ছবিগুলো ৯৪ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত এআই-নির্ভর (AI-generated) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মামলার সত্যতা ও গ্রেপ্তারের বিভ্রান্তি
এদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে হাসনাত আব্দুল্লাহর গ্রেপ্তার সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে দেখা গেছে, সম্প্রতি লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে দেশীয় গণমাধ্যম গুলোতে । কিন্তু সেই মামলায় পুলিশ কর্তৃক কাউকে গ্রেপ্তার করার কোনো তথ্য বা প্রমাণ কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, লন্ডনে মারামারির মামলায় হাসনাত আব্দুল্লাহর গ্রেপ্তারের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। লন্ডনে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষাপটকে পুঁজি করে এআই (AI) দিয়ে ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।







