সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে রিজভী কি আসলেই এমন মন্তব্য করেছেন?

ছবি: আগামীর সময়
গত ৮ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনার পর, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, রিজভী নাকি বলেছেন— ‘সীমান্তে চোরাকারবার বা অবৈধ অনুপ্রবেশে সমস্যা নেই, কিন্তু গুলি করে হত্যা করলেই আপত্তি ওঠে।’
তবে আগামীর সময়ের তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, রুহুল কবির রিজভী এমন কোনো মন্তব্য করেননি। একটি ফেসবুক পেজের ব্যঙ্গাত্মক (স্যাটায়ার) পোস্টকে অসচেতনভাবে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে প্রচার করায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
যেভাবে ছড়ালো এই ভুয়া বক্তব্য
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১১ মে ‘Bengali Steam’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে রুহুল কবির রিজভীর ছবি ব্যবহার করে এই মন্তব্যটি পোস্ট করা হয়। পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি মূলত ‘সার্কাজম’ বা ব্যঙ্গধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করে থাকে। তারা বিনোদন ও ব্যঙ্গ করার উদ্দেশে নিয়মিত এই ধরনের কাল্পনিক পোস্ট তৈরি করে। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই পোস্টটির অন্তর্নিহিত ব্যঙ্গ বুঝতে না পেরে একে রুহুল কবির রিজভীর আসল বক্তব্য মনে করে শেয়ার করতে শুরু করেন।
গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রে অনুসন্ধান
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, দলটির মিডিয়া সেল এবং দেশের মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে অনুসন্ধান করা হলেও রুহুল কবির রিজভীর এই ধরনের কোনো বক্তব্যের অস্তিত্ব বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রিজভীর আসল বক্তব্য কী ছিল?
সীমান্তে বাংলাদেশি নিহতের এই ঘটনাটি নিয়ে গত ১০ মে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিলে রুহুল কবির রিজভী প্রকৃতপক্ষে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, সীমান্তে বারবার গুলি চালিয়ে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত এবং এ ধরনের ঘটনা দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী। সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে এই সহিংস মনোভাব পরিহার করা জরুরি।
তার এই বাস্তব ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিতর্কিত মন্তব্যের কোনো মিল নেই।
সামগ্রিক প্রমাণের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে রুহুল কবির রিজভীর নামে প্রচারিত উক্তিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একটি ফেসবুক পেজের স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ভুল প্রেক্ষাপটে ‘বাস্তব বক্তব্য’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।






