আওয়ামী লীগের গোপন মিটিং নাকি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা?

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের কলকাতায় একটি গোপন বৈঠকে আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ নেতারা অংশ নিয়েছেন— এমন একটি দাবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দাবিতে আরও বলা হয়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এই বক্তব্যকে জোরালো করতে ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিভ্রান্তি।
তবে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, পুরো দাবিটিই ভিত্তিহীন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম বা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং এটি একটি ভিন্ন ঘটনার পুরনো ভিডিও, যা ভুল প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভিডিওর আসল উৎস ও উৎস অনুসন্ধান
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ‘Haldia Live’ নামের একটি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সেই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ৯ সেকেন্ডের অংশটির হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে ভারতের একাধিক মূল ধারার গণমাধ্যমেও একই ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যা ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপটকে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের কেরালা রাজ্যের পাথানামথিট্টা জেলার প্রামাদম স্টেডিয়ামে ঘটে। একটি সরকারি সফরে সেখানে গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণের পরপরই হেলিপ্যাডের একটি অংশ হঠাৎ দেবে যায়। এতে হেলিকপ্টারটি সামান্য হেলে পড়লেও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন এবং বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সবমিলিয়ে স্পষ্ট যে, কেরালায় রাষ্ট্রপতির সফরকালে ঘটে যাওয়া একটি পুরনো ঘটনার ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘কলকাতায় আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। বাস্তবে এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই। এটি একটি মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর।





