রাজস্থানে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ছড়ানো তথ্যটি বিভ্রান্তিকর

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের রাজস্থানে ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন এবং মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ৪৪ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে—দাবি করে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি এবং ক্যাপশনটি নেটিজেনদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া দাবিটিতে কিছু তথ্য সত্য হলেও পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। ঘটনাটি কেবল একটি মসজিদ ভাঙার একক কোনো পদক্ষেপ ছিল না। মূলত জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
আসল ঘটনা ও উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনার তালিকা
ছবির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এবিপি লাইভ’ (ABP Live)-এর একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ৮ জুন প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি জয়পুরের মালব্য নগর ও জগতপুরা এলাকার নান্দপুরী রোডের। প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ২৫-৩০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৮০ ফুটে উন্নীত করার জন্য এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সড়কটি চওড়া করার পথে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অংশ হিসেবে মসজিদ, মন্দির ও মাজারসহ মোট ৫টি ধর্মীয় স্থাপনা এবং বেশ কিছু আবাসিক অবকাঠামো ভাঙা হয়। ৮ জুন সকালে অভিযান শুরু হলে প্রথমে দুটি হিন্দু মন্দির, এরপর একটি সৎসঙ্গ ভবন এবং একটি মাজার ভাঙা হয়। সবার শেষে ৪৪ বছরের পুরোনো নূরানী মসজিদটি উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নূরানী মসজিদ কমিটির অভিযোগ, চূড়ান্ত নোটিশ তারা মাত্র দুদিন আগে পেয়েছিলেন। এর ফলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা যথেষ্ট সময় পাননি। কংগ্রেসের বিধায়ক রফিক খানসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছেদের নোটিশ যথাসময়ে দেওয়া হয়েছিল এবং নিয়ম মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন জয়পুর উত্তর ও পূর্ব এলাকায় অস্থায়ীভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখে। একই সাথে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এটি স্পষ্ট যে, রাজস্থানে কেবল মসজিদ ভাঙার তথ্যটি সত্য নয়। সড়ক প্রশস্ত করার সরকারি প্রকল্পে মন্দিরের পাশাপাশি মসজিদ ও মাজারও উচ্ছেদ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো ঘটনা আড়াল করে আংশিক তথ্য ছড়ানোয় বিষয়টি ‘বিভ্রান্তিকর’রূপ নিয়েছে।





