চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি সেনা ও সাজেকে আরাকান সেনা যোগের ভিডিওটি কি আসল

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি সেনারা প্রবেশ করছে এবং দেশটিকে বিক্রি করে দিয়েছে, এবং একই ভিডিও সাজেকের সন্ত্রাসের সাথে আরাকান সেনা যোগ দিয়েছে দাবিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে যাচাই করে দেখা যায় উভয় দাবিই ভিত্তিহীন। ভিডিওটি ফিলিপাইনভিত্তিক একটি ফেসবুক পেজের, যার সাথে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
কী ভিডিও ছড়াচ্ছে?
ফেসবুকের ‘পাবলিক ভয়েস’ নামের একটি পেজ থেকে গত ২৮ অক্টোবর ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। তার ক্যাপশনে লেখা— ‘চট্টগ্রাম বন্দরে এই সেনাবাহিনীগুলো কোত্থেকে আসলো’। ভিডিওতে দেখা যায়, অন্যদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত কিছু ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায়। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এটি ৩৫৩ বার শেয়ার হয় এবং এতে ৫৩২টি প্রতিক্রিয়া পড়ে।
এছাড়াও ‘Jp Jakir’ নামের আরও একটি আইডি থেকে গত ২৭ অক্টোবর ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। তার ক্যাপশনে লেখা— ‘সাজেকের সন্ত্রাসের সাথে আরাকান সেনা যোগ দিয়েছে’। ভিডিওর প্রথম অংশে অন্যদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত কিছু ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায়, যা আগের ভিডিওর সাথে মিলে যায়। তবে পরের অংশের ভিডিওটি আলাদা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এটি প্রায় ২ হাজার বার শেয়ার হয় এবং এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে।
যাচাইয়ে যা মিলছে
রিভার্স-ইমেজ সার্চে জানা যায়, ফিলিপাইনের 'Tagapagmulat Gin Laroza' নামের একটি ফেসবুক পেজে আগে একই ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভিডিওর সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হুবহু মিলে যায়।
ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল— "Go Ahead Make My Day! Ready na sila!"। এর প্রথম অংশ ইংরেজিতে এবং দ্বিতীয় অংশ ফিলিপাইনের জাতীয় ভাষা ফিলিপিনো বা তাগালগ ভাষায় লেখা, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়—‘এগিয়ে যাও, আমার দিনটা আনন্দময় করে দাও! তারা প্রস্তুত।’
এছাড়া,ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের ইউনিফর্মে ফিলিপাইনের জাতীয় পতাকার মতো প্যাচ লক্ষ্য করা গেছে। এসব দৃশ্যমান ও ভাষাগত প্রমাণ থেকে স্পষ্ট হয় যে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের নয়, বরং ফিলিপাইনের।
তবে সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি ফিলিপাইনের হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।





