বৃদ্ধকে ল্যাং মারার ভিডিও কি সত্যিই যুবদল নেতার?

ছবি: আগামীর সময়
একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ। দাবি বলা হচ্ছে, “বিএনপি ভোট চুরি করেছে” এমন কথা বলায় এক বৃদ্ধকে ল্যাং মেরে ফেলে দেন যুবদল নেতা মনির। দাবিটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে নানা প্ল্যাটফর্মে, তৈরি হয় বিভ্রান্তি।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, কোনো মিল নেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত দাবির । ভিডিওতে যিনি বৃদ্ধকে মারধর করছেন, তিনি যুবদল নেতা নন; বরং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর সভাপতি এম এ সামাদ।
অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ‘Morning Times’ নামের একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে গত ১১ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যা মিলে যায় ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে হুবহু । পোস্টটির ক্যাপশন থেকেই হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়-তিনি কমরেড এম এ সামাদ।
পরবর্তীতে এম এ সামাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও একই ভিডিওসহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়, যা প্রকাশ করেছিলেন তিনি ১২ জানুয়ারি।
সেখানে তিনি নিজেই তুলে ধরেন ঘটনার বিস্তারিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সমাবেশ করছিল তার দল । এসময় এক বৃদ্ধ সমাবেশে বাধা দেন এবং করতে থাকেন উত্তেজনাকর মন্তব্য । একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ওই বৃদ্ধকে মারধর করেন তিনি । ঘটনার জন্য তিনি পরবর্তীতে দুঃখপ্রকাশও করেন।
সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, ঘটনাটির সঙ্গে “বিএনপি ভোট চুরি করেছে” মন্তব্য বা যুবদল নেতার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অতএব, বিএনপি নিয়ে মন্তব্য করার জেরে যুবদল নেতা কর্তৃক বৃদ্ধকে মারধরের যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে-তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।


