পানির ওপর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের দৃশ্যটি এআই

ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন দাবি করে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটিতে দাবি করা হচ্ছে— চট্টগ্রামের বন্যায় পানির ওপর দাঁড়িয়ে মানুষ নামাজ আদায় করছে। ফেসবুকের একটি গ্রুপে গত ১২ জুলাই ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘#চট্টগ্রাম বন্যা #পানির উপর নামাজ আদায় করে।আল্লাহ তায়ালা সিফা দান করুক।’ ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ ছাড়াও ইউটিউব, এক্স ও টিকটকেও ছবিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতে দেখা গেছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়; বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
ছবির অসংগতি
ছড়িয়ে পড়া ছবিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এতে একাধিক অস্বাভাবিক অসংগতি চোখে পড়ে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন ইমাম পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াচ্ছেন এবং তার সামনে একটি মাইক রয়েছে। তবে নামাজে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের চেহারায় চরম অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়; কারও চেহারাই সম্পূর্ণ বা স্পষ্ট নয়। এর চেয়েও বড় অসংগতি হলো, পেছনের কাতারে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের শুধু শরীর দেখা গেলেও অবাস্তবভাবে তাদের কোনো চেহারা বা মুখাবয়ব নেই। এ ধরনের ত্রুটি সাধারণত এআই সম্পাদিত ছবিতেই দেখা যায়।
প্রযুক্তিগত যাচাই ও এআই শনাক্তকরণ টুলসের প্রমাণ
এই অসংগতির নেপথ্যে থাকা কারসাজি নিশ্চিত করতে ছবিটি একাধিক নির্ভরযোগ্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলসে পরীক্ষা করা হয়। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল ‘সিন্থআইডি’ (SynthID)-এর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে স্পষ্ট জানানো হয়, এটি গুগল এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত করা হয়েছে।’ পরে ছবিটি অন্য একটি নির্ভরযোগ্য টুলসে ‘হাইভ মডারেশন’ (Hive Moderation)-এ পরীক্ষা করা হলে সেটির ফলাফলেও দেখা যায়, ছবিটির এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ (৯৯ দশমিক ৭)।
এ ছাড়া প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যম বা বিশ্বস্ত কোনো উৎসে এ ধরনের ঘটনা কিংবা এর কোনো মূল ছবি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, চট্টগ্রামের বন্যায় পানিতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের এই দৃশ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও সাজানো। বন্যা পরিস্থিতির সংবেদনশীল আবেগকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এই কৃত্রিম ছবি তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।






