পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কবীর সুমন

তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও নিজেকে দলটির সমর্থক নন বলে জানিয়েছেন কবীর সুমন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট দিলেও দলের নানা কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন।
আজতক বাংলার সাক্ষাৎকারে শিল্পী বলেছেন, ‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না। মমতা আমার প্রায় হাতে-পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।’
নির্বাচনের ফল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তার ভাষ্য, ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে হঠাৎ সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি তাকে বিস্মিত করেছে। তবে জনসমর্থন কেন তৃণমূলের বিপক্ষে গেল, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। তার মতে, একাধিক ভুলের কারণে মানুষ দলের ওপর আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে চাকরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যর্থতা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কবীর সুমন বলেছেন, ‘যেভাবে ভোটটা হলো, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে ট্যাংক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর, না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন ‘সবুজ সাথী’। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কত বড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।’
নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগের মতোই গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও ভোট হলে তৃণমূলকেই ভোট দেবেন। তবে কোনো শক্তিশালী কমিউনিস্ট দল সামনে এলে, এই বয়সেও তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে এবং তাদের জন্য কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।




