আবারও মঞ্চে নাট্যম রেপার্টরির ‘কোথায় জলে মরাল চলে’

গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শন ও জাগতিক মোহের সঙ্গে অপার্থিব বোধের সংঘাতকে উপজীব্য করে আবারও মঞ্চে আসছে নাট্যম রেপার্টরির সপ্তম প্রযোজনা ‘কোথায় জলে মরাল চলে’। হিন্দি ভাষাসাহিত্যের বিশিষ্ট নাট্যকার মোহন রাকেশের ‘লেহরো কা রাজহংস’ অবলম্বনে নাটকটির বাংলা অনুবাদ করেছেন অংশুমান ভৌমিক। পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন আইরিন পারভীন লোপা।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
নাটকের গল্পে উঠে এসেছে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কপিলাবস্তুর প্রেক্ষাপট। রাজকীয় বিলাস-বৈভব গৌতম বুদ্ধের মনকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। মানবজীবনের দুঃখ, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর ভাবনা তাঁকে ক্রমেই সংসারবিমুখ করে তোলে। একপর্যায়ে রাজকীয় জীবন, স্ত্রী যশোধরা ও পুত্র রাহুলকে ছেড়ে তিনি গৃহত্যাগ করেন। দীর্ঘ সাধনার পর নির্বাণ লাভ করে বহুদিন পর স্বভূমি কপিলাবস্তুতে ফিরে আসেন তিনি।
গৌতম বুদ্ধকে একনজর দেখার জন্য কপিলাবস্তুতে যখন মানুষের ঢল, তখন রাজপ্রাসাদেও তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ। যশোধরা তাঁর কাছে দীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে রাজকুমার নন্দ বুদ্ধের সান্নিধ্য পেতে আগ্রহী হলেও তাঁর স্ত্রী সুন্দরীর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আকর্ষণ নেই। বরং স্বামী নন্দের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ অটুট রাখতে তিনি আয়োজন করেন কামোৎসবের।
সুন্দরীর আয়োজনে নন্দর ভবনে কপিলাবস্তুর অভিজাতদের নিয়ে বসে উৎসবের আসর। নৃত্য, গীত ও সুরাপানের জন্য সাজানো হয় রাজভবন। কিন্তু এর বিপরীতে বুদ্ধের প্রত্যাবর্তন ও তাঁর জীবনদর্শন সৃষ্টি করে ভিন্ন এক আবহ। এভাবেই নাটকে মুখোমুখি হয় জাগতিক মোহ ও অপার্থিব বোধ।
নির্দেশক আইরিন পারভীন লোপা বললেন, গৌতম বুদ্ধের গৃহত্যাগ, দীর্ঘ তপস্যা ও নির্বাণ লাভের পর স্বভূমিতে ফিরে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নাটকের মূল দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে বুদ্ধের দর্শনের প্রতি কপিলাবস্তুর মানুষের আকর্ষণ, অন্যদিকে রাজকুমার নন্দের স্ত্রী সুন্দরীর জাগতিক জীবনের প্রতি আসক্তি—এই দুই বিপরীত অবস্থানের সংঘাত নাটকের অন্যতম প্রধান বিষয়।
তিনি জানান, প্রায় তিন হাজার বছর আগের সামাজিক ও রাজনৈতিক আবহকে মঞ্চে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেট, পোশাক, সংগীত, অঙ্গরচনা ও অভিনয়ের মাধ্যমে সেই সময়কে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে। দর্শকের মূল্যায়নকেই তিনি এই প্রয়াসের সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন।
নাট্যকার মোহন রাকেশের নাট্যসাহিত্যের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের আকর্ষণের কথা উল্লেখ করে নির্দেশক বলেন, নাট্যকলায় অধ্যয়নের সময় থেকেই তাঁর নাটকের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। নাটকটি মঞ্চায়নে অংশুমান ভৌমিকের সহযোগিতা এবং নাট্যগুরু রতন থিয়ামের অনুপ্রেরণার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
‘কোথায় জলে মরাল চলে’ নাটকে অভিনয় করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, সংগীতা চৌধুরী, মো. ফখরুজ্জামান চৌধুরী, শাকিল আহমেদ, দীপু মাহমুদ, শিমুল সাইফুল, মিথিলা চক্রবর্তী, শরিফুল ইসলাম মামুন, তাহমিনা খাতুনসহ অনেকে।
নাটকটির সেট পরিকল্পনায় রয়েছেন অসীম দাস। আবহসংগীতের দায়িত্বে শেখ জসিম, আলোয় মো. বজলুর রহমান, পোশাক পরিকল্পনায় ড. আইরিন পারভীন লোপা, অঙ্গরচনা পরিকল্পনায় শুভাশীষ দত্ত তন্ময় এবং প্রপসের দায়িত্বে শরিফুল ইসলাম মামুন। আবহসংগীত প্রক্ষেপণে রয়েছেন মুক্ত।
নাট্যম রেপার্টরির সপ্তম প্রযোজনা হিসেবে ‘কোথায় জলে মরাল চলে’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে জাগতিক মোহ, মানবজীবনের অনিত্যতা ও সত্যের সন্ধানের মতো বিষয়গুলো দর্শকের সামনে নতুন করে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।





