Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় স্ক্রিন টাইম

ওটিটিতে ধীরগতি, সংকট কোথায়

মীর রাকিব হাসান
মীর রাকিব হাসান
agamir somoy
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬
ওটিটিতে ধীরগতি, সংকট কোথায়

দেশীয় ওটিটিতে শুরুতে জাগরণের আবহ থাকলেও ইদানীং সেই গতি কিছুটা কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

নতুন নতুন অরিজিনাল সিরিজ ও ওয়েব ফিল্ম জনপ্রিয়তা পাওয়ায় শুরুতে দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে জোয়ার ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন কিছুটা ভাটা পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে-পরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তখন বিনোদনের চেয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় ছিল সবার মনোযোগের কেন্দ্রে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আগের সেই জোয়ার আর নেই।

নির্মাতা শিহাব শাহীন বললেন, ‘শুধু ওটিটি নয়, ইউটিউব ও টেলিভিশন নাটকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। এরমধ্যে আবার ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কাটল লম্বা সময়। ধীরে ধীরে ওটিটিতে বিনোদন উপভোগের অভ্যাস আবারও দর্শকের মধ্যে ফিরে আসতে পারে।’

সিনেমামুখী নির্মাতারা

ওটিটির গতি কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ নির্মাতাদের সিনেমার দিকে ঝুঁকে পড়া। হইচই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব আর. খানের মতে, ওটিটিতে নিয়মিত কাজ করা অনেক নির্মাতাই মূলত চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন। সিনেমার বাজার ভালো না থাকায় তারা টেলিভিশন কিংবা ওটিটিতে কাজ করতেন। কিন্তু গল্পনির্ভর ও পরিবারকেন্দ্রিক কিছু সিনেমা ভালো ব্যবসা করায় তাদের মধ্যে নতুনভাবে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আগে যে গল্প নিয়ে তারা ভাবতেন প্রেক্ষাগৃহে চলবে কি না, এখন সেই সংশয় অনেকটাই কমেছে। তানিম নূরের উদাহরণ টেনে সাকিব আর. খান বললেন, ‘পরপর দুটি সিনেমা সুপারহিট হওয়ার পর তার পরবর্তী পরিকল্পনা মূলত সিনেমাকেন্দ্রিক। একইভাবে সৈয়দ আহমেদ শাওকী ওটিটিতে সফল নির্মাতা হলেও দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করেন। শিহাব শাহীন ছাড়া নিয়মিতভাবে ওটিটিতে কাজ করা অনেক নির্মাতাই এখন সিনেমার দিকে বেশি ঝুঁকেছেন।’

অরিজিনাল কনটেন্টে ধীরগতি

শিহাব শাহীন মনে করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো এখন একটি ‘স্ট্রাগলিং পিরিয়ড’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অরিজিনাল সিরিজ তৈরির প্রবণতা কমেছে। অনেক প্ল্যাটফর্ম অরিজিনাল সিরিজের পাশাপাশি সিনেমা প্রোডাকশনের দিকে ঝুঁকছে।
আইস্ক্রিনের হেড অব কনটেন্ট আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক বললেন, ‘দেশে সিনেমা ভালো ব্যবসা শুরুর পর বড় পর্দায় সিনেমা মুক্তির দুই-তিন মাসের মধ্যেই সেগুলো ওটিটিতে আসতে শুরু করে। ফলে প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের অরিজিনাল কনটেন্টের পাশাপাশি ভালো সিনেমা সংগ্রহে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। যারা প্রেক্ষাগৃহে যেতে পারেন না, তাদের জন্য ভালো সিনেমা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে মাঝামাঝি সময়ে অরিজিনাল কাজ কিছুটা কমেছে বলতেই হবে।’

সাকিব আর. খান মনে করেন, শুধু পরিচিত নির্মাতাদের দিয়ে ওটিটি চালিয়ে গেলে হবে না। নতুন পরিচালক, লেখক ও শিল্পীদের সামনে আনতে হবে। হইচই এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭-১৮ জন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছে। সামনে আরও নতুন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

‘ক্যাকটাস’ সিরিজে মেহজাবীন চৌধুরী ও প্রীতম হাসানওটিটিতে তাড়াহুড়ো করে কোনো গল্প নিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। সাকিব আর. খানের মতে, গল্পটি ভালোভাবে তৈরি হতে হবে। হইচই বাংলাদেশ কয়েকটি গল্প নিয়ে কাজ করছে। সেগুলো একে একে চূড়ান্ত করার পর নতুন কনটেন্টের ঘোষণা আসবে। হইচই সাধারণত প্রতিবছরের সেপ্টেম্বরে পরের ১২ মাসের কনটেন্ট স্লেট ঘোষণা করে। এবারও বাংলাদেশি কনটেন্টসহ ২০-২৫টি কনটেন্টের ঘোষণা থাকতে পারে।

চরকিও অরিজিনাল কনটেন্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। রিয়েলিটি শো ও ডকুমেন্টারির পাশাপাশি একটি সুপার অ্যাপ তৈরির কাজ করছে এই প্ল্যাটফর্ম। সেখানে গেমিং, গান, মিউজিক ভিডিও, লাইভ টিভিসহ বাংলা কনটেন্টের বিভিন্ন মাধ্যম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক জানিয়েছেন, নুসরাত ফারিয়াসহ প্রথম সারির তারকাদের নিয়ে পরিকল্পনা করছে আইস্ক্রিন। নতুন জুটিকে নিয়ে ‘মিশন ডিডিএল’ নামে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

হিট কনটেন্টেও লোকসান

ওটিটি ব্যবসার অন্যতম বড় সমস্যা পাইরেসি। সাকিব আর. খানের মতে, একটি কনটেন্ট সুপারহিট হলেও পাইরেসির কারণে প্রত্যাশিত রাজস্ব আসে না। দর্শকসংখ্যা দেখে মনে হয় কনটেন্ট বিপুল হিট, কিন্তু সেই অনুপাতে আয় হয় না। ফলে জনপ্রিয় হওয়ার পরও বিনিয়োগের পুরো অর্থ উঠে আসে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি। কোনো পরিচালক বা শিল্পীর কাজ হিট হলে পরবর্তী কাজে তার পারিশ্রমিক বেড়ে যায়। আগের কনটেন্টের বিনিয়োগ পুরোপুরি না উঠলে পরবর্তী প্রকল্পের বাজেট বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বড় বাজেটের কনটেন্ট বানানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ফ্রি কনটেন্টের অভ্যাস

সাকিব আর. খানের মতে, ভারতে দর্শককে দীর্ঘদিন ধরে টাকা দিয়ে কনটেন্ট দেখার অভ্যাসে আনা হয়েছে। জি বাংলা বা স্টার জলসার অনুষ্ঠান মিস হলে ওয়েবসাইট কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টাকা দিয়ে পর্ব দেখার সুযোগ রয়েছে। ২০১৫-১৬ সাল থেকেই সেখানে পেইড কনটেন্টের অভ্যাস তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে চিত্রটি ভিন্ন। কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে নাটক প্রচারের আধা ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ইউটিউবে উঠে যায়। তবে দেশে ইন্টারনেটের দামও একটি বিষয়। ফলে অনেকে ফ্রি কনটেন্ট খুঁজবেন, সেটিই বাস্তবতা। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কাজ করতে হবে।

প্রযুক্তি ও ভালো কনটেন্ট জরুরি

রেদওয়ান রনির মতে, ওটিটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো প্রযুক্তি ও কনটেন্ট। ওটিটি একটি স্ট্রিমিং ব্যবসা। কী স্ট্রিম করা হচ্ছে এবং কীভাবে করা হচ্ছে, সেটি বোঝার পাশাপাশি একটি কনটেন্ট স্ট্রিম করতে কত ব্যান্ডউইডথ প্রয়োজন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। টেলিভিশনের মতো একসঙ্গে অনেক অনুষ্ঠান বানিয়ে দিলেই হবে না। দর্শক টাকা দিয়ে কনটেন্ট দেখে, তাই চাহিদা ও পছন্দ বুঝে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে সঠিক ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োজন।

সরকারি সহায়তার ঘাটতি

রেদওয়ান রনি বললেন, দেশে এখনো ওটিটিকে আলাদা একটি টার্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, স্বতন্ত্র নীতিমালাও নেই। করপোরেট ব্যবসার লাইসেন্স দিয়ে ওটিটি চালাতে হচ্ছে। দর্শক ট্যাক্স ও ভ্যাট দেওয়ার পাশাপাশি ওটিটির বিভিন্ন রাজস্ব উৎস থেকে ১০ শতাংশ এসডিআর দিতে হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রায় পেমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭৯টির বেশি দেশ থেকে ৩৬টির বেশি মুদ্রায় চরকির কনটেন্টের পেমেন্ট আসে। কিন্তু সরাসরি অর্থ গ্রহণের সুযোগ না থাকায় তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করতে হয়। এতে বড় অঙ্কের টাকা চলে যায়। একটি প্রকল্পের বাজেট ১ কোটি টাকা হলে বিভিন্ন খরচ যোগ হয়ে তা ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় দাঁড়াতে পারে। অথচ পাঁচ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ডেকে সমস্যাগুলো শোনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ভবিষ্যৎ ওটিটির

সংশ্লিষ্টদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে টেলিভিশন দেখার মাত্রা আরও কমবে এবং ওটিটি বড় ভূমিকা নেবে। তাই বর্তমানের ধীরগতি স্থায়ী সংকট নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। মানসম্মত কনটেন্ট, নতুন প্রতিভা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পাইরেসি নিয়ন্ত্রণ, পেইড কনটেন্টের সংস্কৃতি এবং কার্যকর নীতিমালা নিশ্চিত করা গেলে দেশের ওটিটি আবারও গতি ফিরে পেতে পারে।

ওটিটিসংকটনির্মাতাঅরিজিনাল কনটেন্টে
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise