দালাই লামার গ্র্যামি জয় ভালো চোখে দেখছে না চীন

সংগৃহীত ছবি
দালাই লামার ঝুলিতে সম্মান ও পুরস্কার অজস্র। গত আট দশক ধরে তাঁর শান্তির বাণী বিশ্বের অগণিত মানুষকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর চিরপরিচিত সেই শান্তির বার্তাই ৯০ বছর বয়সে গ্র্যামি পুরস্কারে ভূষিত করল তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামাকে। তিব্বত থেকে নির্বাসনের পর গত সাত দশক ধরে তাঁর ঠিকানা ভারতবর্ষ। রবিবার নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দলাই লামার গ্র্যামির ট্রফিতেও যুক্ত হলো ভারতের নাম। অডিওবুক, ন্যারেশন ও স্টোরিটেলিং বিভাগে তাঁর গ্র্যামিজয়ী রেকর্ডে সুর দিয়েছেন সরোদবাদক আমজাদ আলি খান ও তাঁর দুই পুত্র।
সোমবার ভোরে দালাই লামার গ্র্যামি জেতার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে তাঁকে ঘিরে। দালাই লামার গ্র্যামি পুরস্কারকে যে তারা ভালো চোখে দেখছে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছে চীন। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র বিদেশ মন্ত্রোণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। শিল্পের আড়ালে চীন বিরোধী রাজনৈতিক প্রচারকে সামনে আনা হচ্ছে।’
দালাই লামা অবশ্য এক বার্তায় জানিয়েছেন, ‘এই পুরস্কারকে আমি ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছি না। এই বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের প্রতি, শান্তির প্রতি, সৌভ্রাতৃত্বের প্রতি আমাদের যে যৌথ দায়বদ্ধতা রয়েছে মানুষ হিসেবে, এই পুরস্কার তারই স্বীকৃতি।’ রবিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন আমেরিকান সঙ্গীতকার রাফাস ওয়েনরাইট।
শান্তি, ধ্যান, করুণা, ভালোবাসার মতো দশটি বিষয় নিয়ে দালাই লামার বাণী ও বক্তৃতার সংকলনকে একটি অডিওবুক আকারে প্রকাশ করা হয় গত বছর। অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাইয়ের মতো অনলাইন মিউজিক পোর্টালে ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়েছে মেডিটেশন: রিফ্লেকশনস অফ হিজ় হোলিনেস দ্য দালাই লামা নামের সেই অডিওবুকটি। দালাই লামার বার্তার সঙ্গেই অ্যালবামে রয়েছে কিংবদন্তী সরোদবাদক আমজাদ আলি খান ও তাঁর দুই পুত্র আয়ান আলি ও আমন আলি বাঙ্গাশের সুর। ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীতের সঙ্গে অ্যালবামে রয়েছে রাফাস ওয়েনরাইট, ডেবি নোভা, ম্যাগি রজার্সের মতো পশ্চিমের বিখ্যাত সঙ্গীতকারদের সুর ও গান।
এ দিন গ্র্যামি জয়ের খবরে উচ্ছ্বসিত আমজাদ আলি খান এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘দালাই লামার শান্তির বার্তা আমাদের সুরের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এর চেয়ে বড় পুরস্কার কী বা হতে পারে!’ এই পুরস্কার যুদ্ধে বিধ্বস্ত পৃথিবীকে নতুন আশার আলো দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা কমল হাসান।
এই পুরস্কার জয়ের আনন্দে ভেসেছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের ধরমশালার ম্যাকলিওডগঞ্জ। ১৯৫৯ সালে চীন থেকে পালিয়ে এসে সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন চতুর্দশ দালাই লামা। ধর্মশালার লক্ষাধিক তিব্বতি উদ্বাস্তুরা এ দিন এই পুরস্কার জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন। তিব্বতি সাহিত্যিক তেনজিন সুন্দু বলেন, ‘এই গ্র্যামি পুরস্কার বিশ্ব মানবতা ও করুণার কথা বলা এক দৈব কণ্ঠকে স্বীকৃতি দিল।’



