আমি এখন ফুলটাইম গৃহিণী পার্টটাইম অভিনেত্রী
- অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও বরাবরই আলোচনায় থাকেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। নতুন কাজ, ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হোসেন

অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া
ঈদুল আজহায় কোন কোন কাজ প্রচার হয়েছে?
এবারের ঈদের দুটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছি। হাসান রেজাউলের ‘মা-বাবা ভাই-বোন’ এনটিভিতে এবং মাসুদ সেজানের ‘ভিউ বাণিজ্য’ প্রচার হয়েছে এশিয়ান টিভিতে। এ ছাড়া দেশ টিভি ও বাংলাভিশনে দুটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছি।
গত কয়েক বছরে খুব বেছে বেছে কাজ করার কারণ কী?
মূলত ভালো স্ক্রিপ্ট পাইনি। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে আমার ওজন অনেক বেড়েছে। আমার বর্তমান শারীরিক গঠনের সঙ্গে মানানসই চরিত্র ছাড়া অন্য কিছু করা উচিত হবে বলে মনে হয়নি। সব মিলিয়ে কাজের সংখ্যা কমেছে।
ব্যক্তিজীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বা গুঞ্জন কি আপনাকে বিরক্ত করে?
অবশ্যই। নিজের জীবন নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা কখনোই পছন্দ করি না। আমি খুব সীমিত পরিসরে চলাফেরা করি, মানুষের সঙ্গে খুব কম মিশি। কোনো অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে সাধারণত আমাকে পাবেন না। সবসময় নিজের মতো থাকতে পছন্দ করি। এসব পরিস্থিতি সামলানো খুবই কঠিন। অনেক সময় ভীষণ হতাশ লাগে। তখন নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করি— হয়তো এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে আমার যেকোনো কথা সংবাদ হয়ে যায়। কিন্তু এটা আসলে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র।
আপনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটি ছিল?
আমার মনে হয়, ২০২০ সাল ছিল আমার জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে কঠিন সময়। করোনার শুরুতে পরিবারকে জানিয়েছিলাম, আমি বিচ্ছেদ চাই। এরপর আমার বড় বোন ও ছোট বোন করোনায় আক্রান্ত হয়। মাঝে ধরা পড়ে আমার মায়ের সব আর্টারি ব্লক হয়ে গেছে। মাত্র সাত দিনের নোটিসে তার বাইপাস সার্জারি করতে হয়। ওই বছরের নভেম্বর মাসে বিচ্ছেদের কাগজে সই করি। এরপর সামাজিকভাবে যে মানসিক চাপ ও ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটি সামলানো খুব কঠিন ছিল।
সংসারকে বেশি সময় দিচ্ছেন এখন?
বিয়ের আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। সবসময় একটি সুন্দর সংসার ও নিজের একটি ঘরের স্বপ্ন দেখেছি। অবশেষে আল্লাহ আমাকে জীবনে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। তাই জীবনের এই অধ্যায়ও পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই। এখন অনেক প্রমোশনাল কনটেন্ট করি, যেগুলোর শুটিং বাসা থেকেই করা যায়। তাই বলতে পারেন, আমি এখন ফুলটাইম গৃহিণী, পার্টটাইম অভিনেত্রী।
বই পড়ার অভ্যাস কি এখনো আছে?
আগের মতো নিয়মিত বই পড়া হয় না, এটা সত্যি। তবে একেবারেই পড়ি না, তা নয়। কোথাও ঘুরতে গেলে অবশ্যই সঙ্গে বই থাকে। বর্তমানে জাপানি লেখক তোশিকাজু কাওয়াগুচির ‘আফটার কফি গেটস কোল্ড’ বইটি পড়ছি। এর আগে একই লেখকের ‘বিফোর দ্য কফি গেটস কোল্ড’ পড়েছিলাম। ছোট ছোট গল্পের বই পড়তে আমার ভালো লাগে।
লেখালেখির কোনো পরিকল্পনা আছে?
অবশ্যই আছে। একসময় পত্রিকায় লিখেছি। কিন্তু একটি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর আর চালিয়ে যাওয়া হয়নি। আবার লিখতে চাই। ছোটবেলা থেকে সবাই বলতেন, আমি ভালো লিখি। অষ্টম শ্রেণিতে আমার লেখা একটি রচনা এতই ভালো লেগেছিল যে, বাংলা শিক্ষক সেটি প্রিন্ট করিয়ে স্কুলের দেয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কখনো লেখালেখি ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না আমার। এখন সেই শিক্ষকের কথা রাখতে গিয়ে ফেসবুকে লিখি আর নানা ধরনের ঝামেলায় পড়ে যাই।




