অ্যাপ্রোচ সড়কে অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছে বাউফলবাসী

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি নির্মাণকাজ শুরু হলেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে বাউফল উপজেলার দ্বীপাশা খালের ওপর ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজার, চন্দ্রপাড়া চৌরাস্তা ও মধ্যমদনপুরা সড়কের সংযোগস্থলে নির্মিত সেতুটির কাজ পায় শাহিন এন্টারপ্রাইজ ও গিয়াস উদ্দিনের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ৮৩ লাখ ২ হাজার ৯৬৩ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণের সময়ও পাইলিংসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম হয়েছিল। নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। কারণ মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
সম্প্রতি অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু হলে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, অ্যাপ্রোচে ব্যবহারের জন্য তৈরি ব্লকগুলোতে সিলেট বালুর পরিবর্তে মাটি ও স্থানীয় বালু ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সিমেন্টের পরিমাণও প্রয়োজনের তুলনায় কম দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্লকগুলো হাতে তুললেই ভেঙে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, নাসির উদ্দিন ও আয়শা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বারবার আপত্তি জানালেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। এছাড়া নির্মাণকাজ তদারকিতে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তাকে নিয়মিত দেখা যায় না বলেও দাবি করেন তারা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট বিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩১৯ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বাকি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী সিলেট বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করে ব্লক তৈরির কথা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার গিয়াস উদ্দিন বললেন, ব্লকগুলো এখনো স্থাপন করা হয়নি। কোথাও ত্রুটি পাওয়া গেলে নতুন করে ব্লক তৈরি করা হবে।
বাউফল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আরজুরুল হক বলছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ ফেলে রাখার কারণে ঠিকাদারকে একাধিকবার দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ। সম্প্রতি অফিসকে অবহিত না করেই কাজ শুরু করা হয়। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




