শিল্পীদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক করা উচিত

পারসা ইভানা -র্যাফ ক্লিক
অভিনেত্রী পারসা ইভানা একসময় নৃত্যশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে অভিনয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
এখন কি আগের তুলনায় কাজ বেছে করছেন?
অনেক নাটকের প্রস্তাব আসে। কিন্তু যেসব চরিত্র আগে করে ফেলেছি বা একই ধরনের মনে হয়, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। অবশ্য সবসময় সেটা সম্ভব হয় না। অনেক সময় গল্প ভালো হয়, কিন্তু আমার আগে অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে নতুন পাওয়া চরিত্রের কিছুটা মিল পাই। তখন পরিচালক ও সহশিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করি, কীভাবে চরিত্রটিকে একটু আলাদা করা যায় কিংবা নতুন কিছু যুক্ত করা যায়। আমার চেষ্টা থাকে, দর্শক যেন প্রতিবার নতুন একজন ইভানাকে দেখতে পান।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ কি আপনার ফেরার সম্ভাবনা দেখেন?
কাজল আরেফিন অমির সঙ্গে গত দুই বছর ধরে কোনো কাজ হয়নি। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট ৫’ তো প্রায় শেষ। অনেকে জানতে চান, ব্যাচেলর পয়েন্টে আবার ফিরব কি না। সত্যি বলতে, আমাকে এখন পর্যন্ত ডাকা হয়নি। ভবিষ্যতে যদি এমন কিছু হয়, নিশ্চয়ই আনুষ্ঠানিকভাবেই সবাই জানতে পারবেন।
গত মাসে পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন। বিষয়টির কোনো অগ্রগতি হয়েছে?
এখনো কোনো সমাধান হয়নি। যার কাছে টাকা ছিল, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল, তারা পুরো টিমের দায়িত্ব নিয়েছে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের পাওনা তারা পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক।
আগে কি এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন?
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। তখন নতুন ছিলাম, কথা বলার জায়গাও তেমন ছিল না। অনেক সময় পারিশ্রমিক পাইনি, কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহসও হয়নি। আজও অনেকের কাছে টাকা পাওনা আছে। তবে কার কার কাছে কত টাকা পাব, সেটা এখন মনে নেই। আসলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানে বেশিরভাগ কাজই বিশ্বাসের ওপর হয়। একজন পরিচালক বা প্রযোজক বললেন, আমি কাজ করলাম। কিন্তু পরে যদি তিনি কথা না রাখেন, তখন আমার হাতে কোনো আইনি কাগজ থাকে না। কারণ বেশিরভাগ নাটকের ক্ষেত্রে কোনো লিখিত চুক্তিই হয় না। আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে প্রতিটি কাজের জন্য লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক করার। বিশেষ করে নতুন শিল্পীদের জন্য এটি খুব প্রয়োজন। এটা পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই ভালো হবে।
একসময় আপনার পরিচিতি ছিল মূলত নৃত্যশিল্পী। অভিনয়ের ব্যস্ততায় নাচ কি পিছিয়ে গেছে?
না, আমি মনে করি না নাচ থেকে দূরে সরে গেছি। বরং এখনো দুই-তিন মাস পরপর অন্তত একটি নাচের ভিডিও প্রকাশ করি। কারণ দর্শক আমার নাচ দেখতে ভালোবাসেন। তবে নিজের জন্য নাচের কনটেন্ট তৈরি করা খুব সহজ নয়। এগুলোর পুরো খরচই আমি নিজে বহন করি। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যে সময় বের করে নাচের ভিডিও করি। কয়েক দিন আগে একটি ভিডিও শুট করেছি। এটি এখনো প্রকাশ করিনি। নাচের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সবসময় চেষ্টা করি। কারণ নাচ আমার পরিচয়ের বড় একটি অংশ।
শুনলাম আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কিছুদিনের জন্য নিউ ইয়র্কে যাচ্ছি। আমার মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। একটু ছুটি কাটানোও হবে। এর ফাঁকে আবারও নাচের কিছু নতুন কোর্স করার পরিকল্পনা আছে। গত বছর প্রায় চার মাসের জন্য কাজ থেকে বিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলাম। তখন ভাবছিলাম, এতদিন বসে কী করব! এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টুডিওর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ফ্রিম্যান স্টুডিওর কথা জানতে পারি। আবেদন করার পর অডিশন দিয়ে কোর্স করতে পেরেছি। হিপহপ, কনটেম্পোরারি নাচের কোর্সও করেছি। একেক দিন একেক ধরনের ক্লাস করেছি।
নতুন কোন নাটকের কাজ করলেন?
অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার প্রযোজনায় সম্প্রতি ‘রুমালে গাঁথা ভালোবাসা’ নামের একটি নাটকের কাজ করলাম। তিনি নতুনদের বেশ উৎসাহ দেন। নাটকটি সাগর জাহানের পরিচালনায় আমার প্রথম কাজ। এতে আমার সহশিল্পী ইরফান সাজ্জাদ।




