১০০ মিলিয়নের ক্লাব
সবচেয়ে বেশি দেখা গান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একসময় দেশের একটি গান ইউটিউবে এক কোটি ভিউ পার করলেই সেটিকে বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। সেই হিসাব এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ১০ কোটি ভিউ বা ১০০ মিলিয়ন এখন আর অসম্ভব কোনো মাইলফলক নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের একাধিক গান ২০, ৩০, এমনকি ৪০ কোটিরও বেশি ভিউ পাওয়ার নজির স্থাপন করেছে। দেশের সিনেমা, মিউজিক ভিডিও ও অডিওর দুনিয়ায় এমন মাইলফলক ছুঁয়েছে বেশ কিছু গান। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া গান শুধু সংখ্যার বিচারে এগিয়ে নেই; এগুলোর গল্পে আছে তারকা, সিনেমা, সুর, কথার জাদু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, প্রজন্মের চাহিদার পরিবর্তন এবং দেশীয় সংগীত বাজারের বদলে যাওয়ার চিত্র।
কোন গান কেন হিট
বাংলাদেশি গানের ইউটিউব সাফল্যের গল্পে শুধু ভালো গান থাকলেই হয় না। এখানে একসঙ্গে কাজ করে সুর, কথা, কণ্ঠ, শিল্পীর পরিচিতি, অভিনয়শিল্পী, সিনেমার জনপ্রিয়তা এবং সবচেয়ে বড় বিষয়— ডিজিটাল সংস্কৃতি। ‘অপরাধী’র সাফল্য ছিল অনেকটা অপ্রত্যাশিত। আরমান আলিফের এর আগে মাত্র দুটি গান প্রকাশ হয়েছিল। গানগুলো তেমন আলোচিতও ছিল না। অন্যদিকে ‘লাগে উরা ধুরা’ ও ‘দুষ্টু কোকিল’-এর গল্প ভিন্ন। এখানে গানকে এগিয়ে দিয়েছে সিনেমা, তারকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— তিনটিই। ‘তুফান’-এর শাকিব খান ও মিমি চক্রবর্তীকে ঘিরে তৈরি হওয়া দুই গানের ভিডিও দর্শকের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। ‘লাগে উরা ধুরা’ মাত্র দুই মাসে চরকির ইউটিউব চ্যানেলেই ১০ কোটি ভিউ পার করেছিল। গানটি ইউটিউবের বৈশ্বিক ট্রেন্ডিংয়েও উঠে আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ছয় লাখ রিল তৈরি হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— সিনেমা গানকে জনপ্রিয় করেছে, নাকি গান সিনেমাকে? ‘তুফান’-এর ক্ষেত্রে উত্তরটা সম্ভবত দুটিই। শাকিব খানের তারকাখ্যাতি গানকে প্রথম দর্শক দিয়েছে; কিন্তু গানগুলো নিজের শক্তিতে সিনেমার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের ইউটিউব চার্টেও ‘লাগে উরা ধুরা’ বাংলাদেশের শীর্ষ ট্র্যাকগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে, অর্থাৎ মুক্তির দুই বছর পরও গানটির ব্যবহার ও শ্রোতা ধরে রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
পুরনো গান বনাম নতুন গান
এখানেই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ২০১৫ সালের ‘সরি দীপান্বিতা’ প্রায় ২৩ কোটি ভিউ পেয়েছে। ২০১৮ সালের ‘অপরাধী’ ৪৫ কোটির ঘরে। ‘তোর মনের পিঞ্জিরায়’ ৩১ কোটির ওপরে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ‘দুষ্টু কোকিল’ মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ে ৪৪ কোটির ঘরে। ‘লাগে উরা ধুরা’ও একই সময়ের মধ্যে ৩৭ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। অর্থাৎ পুরনো গান দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার গল্প বলছে, আর নতুন গানগুলো বলছে দ্রুততম ডিজিটাল বিস্ফোরণের গল্প।
ভিউয়ের বয়স
১০ কোটি ভিউ পেলেই দুই গানের সাফল্য সমান নয়। গানটি কত বছরে সেই জায়গায় পৌঁছেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত আনুমানিক হিসাব করলে— ‘অপরাধী’ ২০১৮ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৩ বছর ধরে ৪৫ দশমিক ৬৫ কোটি ভিউ পেয়েছে। অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ৫৫ লাখ ভিউয়ের সমপরিমাণ। ‘দুষ্টু কোকিল’ ২০২৪ থেকে প্রায় ২ দশমিক ১ বছরেই ৪৪ দশমিক ৭২ কোটি ভিউয়ের কাছাকাছি। বছরে গড় প্রায় ২০ দশমিক ৯ কোটি।
‘লাগে উরা ধুরা’ প্রায় ২ দশমিক ২ বছরে ৩৭ দশমিক ২৮ কোটি— বার্ষিক গড় প্রায় ১৬ দশমিক ৯ কোটি। ‘টিডিং টিডিং পম পম’ প্রায় ৩ দশমিক ৯ বছরে ৩১ দশমিক ৬৬ কোটি— বার্ষিক গড় প্রায় ৮ দশমিক ১ কোটি। ‘তোর মনের পিঞ্জিরায়’ প্রায় ৭ দশমিক ৭ বছরে ৩১ দশমিক ২৪ কোটি— বার্ষিক গড় প্রায় ৪ কোটি। এই হিসাব একটি বিষয় পরিষ্কার করে— পুরনো গানের মোট ভিউ বেশি হতে পারে; কিন্তু নতুন গানের ভিউ অর্জনের গতি অনেক বেশি।
ইউটিউব ভিউয়ে শীর্ষ ১০
- অপরাধী (৪৫ কোটি ৬৫ লাখ), আরমান আলিফ
- দুষ্টু কোকিল (৪৪ কোটি ৭২ লাখ), কনা ও আকাশ সেন
- বলবোনা গো আর কোনোদিন (৩৮ কোটি ৪০ লাখ), বাউল সুকুমার
- লাগে উরা ধুরা (৩৭ কোটি ২৮ লাখ), প্রীতম হাসান ও দেবশ্রী অন্তরা
- টিডিং টিডিং পম পম (৩১ কোটি ৬৬ লাখ), রাসেল রহমান ও নাফিসা উপমা
- তোর মনের পিঞ্জিরায় (৩১ কোটি ২৪ লাখ), জিসান খান শুভ
- নেশা (২৯ কোটি ১৪ লাখ), আরমান আলিফ
- খায়রুন লো (২৮ কোটি ২২ লাখ), মমতাজ ও পলাশ
- বধূ বেশে কন্যা যখন (২৪ কোটি ৭২ লাখ), রথীন্দ্রনাথ রায় ও মমতাজ
- সরি দীপান্বিতা (২৩ কোটি ৩৭ লাখ), তারিফ ও শিফাত





