‘সেয়ানা’ কমিউনিটি কাস্টিংয়ের সিনেমা

অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক এখন প্রযোজক হিসেবে আলোচিত। তার প্রযোজিত ‘সাঁকোটা দুলছে’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
পূজা কীভাবে কাটছে?
এবার ঢাকাতেই পূজা করছি। এই মুহূর্তে (গতকাল বিকাল) বনানী পূজামণ্ডপে আছি। প্রসাদ খাচ্ছি। দিনে শুটিং থাকে, সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপে আসি। শুটিং করছি, পূজাও উপভোগ করছি। এবার ইচ্ছা ছিল দশমী পর্যন্ত গ্রামে থাকার। কিন্তু দশমী পর্যন্তই শুটিংয়ের ব্যস্ততা আছে। তাই গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হচ্ছে না।
কী শুটিং করছেন?
একটি রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনা করছি। আপাতত এর নাম বলতে চাই না। এর একাধিক সিজন হয়েছে। এবার আমি যুক্ত হলাম। শিগগিরই অনুষ্ঠানটি প্রচারে আসবে।
আপনার প্রযোজিত ‘সাঁকোটা দুলছে’ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে...
সম্প্রতি তিনটি উৎসবের খবর এলো। এর মধ্যে মিনস্ক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছয়টি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে ‘সাঁকোটা দুলছে’। মিসরের কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা করবে এটি। এ ছাড়া পোল্যান্ডের এনার্গাক্যামেরিমেজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দুটি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। ক্যামেরিমেজকে বলা হয় ‘সিনেমাটোগ্রাফির অস্কার’। এতে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ আমাদের দৃশ্যভাষার জন্য দারুণ সম্মানের বিষয়। আমাদের সিনেমার এই যাত্রা অবশ্যই আনন্দের। সিনেমাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল ও সংবাদমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
দেশে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন?
আশা করি, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দেশে সিনেমাটির প্রিমিয়ার করতে পারব। এরপর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি। তবে এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
প্রযোজনা কেমন উপভোগ করছেন?
কখনোই প্রযোজক বা অর্থ বিনিয়োগকারী হতে চাইনি। মূল উদ্দেশ্য ছিল আমার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে প্রযোজনা। এর মাধ্যমেই তাদের সহযোগিতা করছি। শিক্ষার্থীরা যেভাবে ‘সাঁকোটা দুলছে’র গল্প ভেবেছে, চলচ্চিত্রটি কল্পনা করেছে, সেভাবেই কাজ করছে। এক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। নতুন চলচ্চিত্রের ভাষা তৈরির জন্য এই স্বাধীনতা খুবই প্রয়োজন। একজন নির্মাতা নিজের মতো গল্প বলতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দিতে হয়।
প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের জটিলতা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে?
প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থের জোগান। চলচ্চিত্র নির্মাণে কমবেশি অনেক টাকা খরচ হয়। কাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে খরচ বাড়তে থাকে। ফলে অর্থের সংস্থান করা ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের দল নিয়ে। শুরুতে আমাদের দলের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল শিক্ষার্থী। তখন তারা সবাই নতুন ছিল, অভিজ্ঞতাও কম ছিল। এ কারণে অনেক ভুল হয়েছে, অনেক কিছু নতুনভাবে করতে হয়েছে। এমন অনেক বিষয় ছিল, যেগুলো আমরা আগে জানতাম না; কাজ করতে করতেই সেগুলো শিখেছি।
সরকারি অনুদান পাওয়া আপনার আরেক সিনেমা ‘সেয়ানা’র কাজ কতদূর এগোল?
টঙ্গীতে রেলস্টেশন ও বস্তি এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ‘সেয়ানা’র শুটিং চলছে। চলতি মাস জুড়ে আমরা শুটিং করব। এরপর আরও একটি ধাপে শুটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতেও পরিচিত মুখ তেমন নেই। এটিকে বলা যেতে পারে কমিউনিটি কাস্টিংয়ের সিনেমা। যে চরিত্র যেমন, সেই চরিত্রের উপযুক্ত মানুষকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৯০ শতাংশ কাস্টিং আমরা এভাবেই করেছি। যেমন, কোনো বিহারি চরিত্র থাকলে সেই সম্প্রদায় থেকে অভিনয়শিল্পী নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বস্তির কোনো ছেলের চরিত্র থাকলেও সেখান থেকেই উপযুক্ত কাউকে খুঁজে নিচ্ছি। এভাবে চরিত্র ও তাদের পরিবেশের বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই।
ইদানীং অভিনয়ে আপনাকে আগের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে...
সময়ের ভাগাভাগি তো হয়েছেই। শিক্ষকতা নিয়মিত করতে হয়, ক্লাস নিতে হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি প্রযোজনার কাজ আছে। তবে সবধরনের প্রযোজনায় কাজ করতে আগ্রহী নই, কিংবা সব কাজ করার সুযোগও হয় না। কিন্তু আমি সবসময়ই অভিনয়ের মানুষ। অভিনয় আমার কাছে এক নম্বরে। অভিনয় করে যেতে চাই।



