শিল্পকলা একাডেমিতে আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘বাঘ’

মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকা হিংস্রতা, ভয়, লোভ, প্রেম ও প্রতিবাদের নানা দিক তুলে ধরে তৈরি হয়েছে নাট্যপালার প্রযোজনা ‘বাঘ’। সামাজিক অবহেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে এক যুবকের মধ্যে কীভাবে পশুত্ব জেগে ওঠে, তা নিয়েই এগিয়েছে নাটকটির কাহিনি।
ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে আজ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ‘বাঘ’ মঞ্চায়ন করবে নাট্যপালা। বাদল সরকারের রচনায় এটি নির্দেশনা দিয়েছেন তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না। অভিনয়ে জুবায়ের জাহিদ ও প্রমা হুসাইন।
‘বাঘ’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র এক স্বশিক্ষিত যুবক, যে নারীদের অপহরণ করে। একদিন সে এক কর্মজীবী নারীকে ধরে আনে। প্রতিবাদী মনোভাবের ওই নারী বিভিন্ন সমিতির সঙ্গে যুক্ত, থিয়েটার করে। তাদের মধ্যে কথোপকথন, তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে যুবকের মনে নারীর প্রতি বন্ধুত্বের আকর্ষণ তৈরি হয়।
এর সূত্র ধরে তাদের আলোচনায় উঠে আসে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো বিষয়। অঙ্কে যুবকের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বন্ধুত্বের বন্ধনে তাকে জড়িয়ে ফেলে ওই নারী।
একপর্যায়ে যুবক তার হিংস্রতা থেকে বেরিয়ে আসে আর নারী মুক্তি পায় বাঘের ডেরা থেকে। নাটকটির ভাবনায় বাঘ শুধু জঙ্গলের হিংস্র প্রাণী নয়; মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভয়, লোভ, প্রেম আর দ্রোহেরও প্রতীক। প্রকৃতির টিকে থাকার লড়াইয়ের পাশাপাশি মানুষের অন্তর্গত অন্ধকারও উঠে এসেছে এতে।
মানুষের বিবেক ও সমাজের সামনে নাটকটি প্রশ্ন তুলে ধরে— আসল হিংস্র কে, জঙ্গলের বাঘ, নাকি সভ্যতার মানুষ? বাঘের বিলুপ্তি হলে মানুষের অস্তিত্বও কি হুমকির মুখে পড়বে? নানা প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া নাটকের কাহিনিতে নাট্যকার বাদল সরকার মানুষের জীবনে নারীর অবদান এবং গণিতের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।



