‘বনলতা সেনের মতো স্মরণীয় কাজ করতে চাই’
- জীবনানন্দ দাশের জীবন অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় শোভনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুপন্তী আকিদ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান

রুপন্তী আকিদ
‘বনলতা সেন’ সিনেমায় যুক্ত হলেন কীভাবে?
অস্ট্রেলিয়ায় ‘হৃদয়ে নজরুল’ নামে একটি মঞ্চ প্রযোজনায় কাজ করেছিলাম। সেখানকার একটি ছবি দেখে মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের সহকারী পরিচালক যোগাযোগ করেন আমার সঙ্গে। এরপর তারা কিছু সংলাপ পাঠান। সেগুলো আমাকে অভিনয় করে পাঠাতে হয়। অনেকটা অডিশনের মতো। চরিত্রের চেয়েও সিনেমাটির প্রতি আগ্রহের মূল কারণ ছিল পরিচালক। তার নাটক ও সিনেমা আগে দেখেছি। তিনি এই সিনেমায় নতুন কিছু দিয়েছেন। ‘বনলতা সেন’ দেখলে দর্শকদের মধ্যে নতুন করে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যনির্ভর একটি চরিত্রে নিজেকে প্রস্তুত করলেন কীভাবে?
অনেক কঠিন কাজ ছিল এটি। প্রমিত বাংলা শিখতে ও পুরনো মুভি দেখতে প্রতিদিন ‘বনলতা সেন’ নির্মাতার কাছ থেকে নির্দেশনা আসত। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাগুলো দেখতে বলা হতো। সারাক্ষণ আমার মায়ের হাতে স্ক্রিপ্ট থাকত আর উনি পড়তেন ও আমাকে পড়াতেন, যাতে উচ্চারণ ঠিক হয়। এভাবে অনেকদিন অনুশীলন করেছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়াল দেওয়ার আগপর্যন্ত প্রতি মুহূর্তে নিজেকে তৈরি করেছি। ঢাকায় গিয়ে মূল শুটিংয়ের আগে আমরা কস্টিউম পরে প্রতিদিন ক্যামেরার সামনে মহড়া করতাম।
সিনেমাটির পাণ্ডুলিপি কি আপনার সুবিধার জন্য ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছিল?
আমি বাংলা বুঝি এবং বলতেও পারি। তবুও আমার অংশটুকু ইংরেজিতে টাইপ করে নিয়েছিলাম। সংলাপ বুঝে আবেগ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আয়নার সামনে নানা অভিব্যক্তি দিয়ে মহড়া করতাম।
‘বনলতা সেন’-এর শোভনা হতে পেরে কেমন লেগেছে?
শোভনা চরিত্রটি যেন আমার জন্যই ছিল! আর কোনো চরিত্রে বললে হয়তো করতামই না কাজটি। শোভনা জীবনানন্দের জীবনের প্রথম প্রেম। গুগল সার্চ করে শোভনার বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। এমন একটি চরিত্রে পরিচালক আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, এজন্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি পেশাদার অভিনয়শিল্পী নই। তাই গতানুগতিকতার বাইরে ‘বনলতা সেন’-এর মতো স্মরণীয় কিছু কাজ করতে চাই।
জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়েছিলেন আগে?
না। তবে শুটিংয়ে গিয়ে জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। আমার সহশিল্পী খায়রুল বাসার শুটিংয়ে সবসময় জীবনানন্দের কবিতা পড়তেন। তার লেখা, ‘এই পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর’ লাইন দুটো আমার খুব পছন্দের। খায়রুল বাসার খুব সহযোগিতাপ্রবণ। তিনি আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন। প্রতিটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় বুঝিয়ে দিয়েছেন আমাদের কেমিস্ট্রি কেমন হওয়া প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ায় আপনি কী কাজ করেন?
অস্ট্রেলিয়ার স্টেট গভর্মেন্টের একটি ফুল টাইম জব করি। তা ছাড়া আমার ফটোগ্রাফি বিজনেস আছে।






