ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন এলেন বার্স্টিন

এলেন বার্স্টিন
হলিউডের সোনালি যুগের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী এলেন বার্স্টিন। পেয়েছিলেন অস্কারও। এবার তার ঝুলিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা।
আসন্ন ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীকে তার দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গোল্ডেন লায়ন ফর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ বা আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হবে।
গত মঙ্গলবার উৎসবের আয়োজক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। আগামী ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিস শহরে বসবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের এই মর্যাদাপূর্ণ আসর।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শৈল্পিক পরিচালক আলবার্তো বারবেরা এলেনের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি এমন এক অভিনেত্রী যিনি পর্দায় বিরল তীব্রতা ও চরম সত্যকে ফুটিয়ে তোলেন। সমসাময়িক নারীদের জীবনের দ্বন্দ্ব, সংগ্রাম ও রূপান্তরকে তিনি তার অনবদ্য অভিনয় দিয়ে সেলুলয়েডে অমর করে রেখেছেন।
পরিচালক পিটার বোগদানোভিচের ক্লাসিক ছবি ‘দ্য লাস্ট পিকচার শো’ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানো বার্স্টিনকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা হরর ছবি ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ তাকে এনে দেয় বৈশ্বিক তারকাখ্যাতি।
এরপর মার্টিন স্করসেসির নারীবাদী মাস্টারপিস ‘অ্যালিস ডাজন্ট লাইভ হেয়ার অ্যানিমোর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেন তিনি।
এছাড়া ড্যারেন আরোনফস্কির ‘রিকুয়েম ফর আ ড্রিম’ এবং ক্রিস্টোফার নোলানের মহাকাব্যিক সায়েন্স-ফিকশন ‘ইন্টারস্টেলার’ ছবিতে তার অভিনয় আজও চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
৯৩ বছর বয়সে এসেও এমন বড় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস লুকাতে পারেননি এলেন বার্স্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘ওয়াও! আমি কেবল পৃথিবীর বুকে আমার অন্যতম প্রিয় একটি শহরে যাওয়ার সুযোগই পাচ্ছি না, একই সাথে ফেরার সময় নিজের কোলে করে একটি গোল্ডেন লায়ন ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরব!
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের এই আজীবন সম্মাননা আমাকে অত্যন্ত গর্বিত, আনন্দিত ও কৃতজ্ঞতায় সিক্ত করেছে। সত্যিই এটি একটি জাদুকরী অনুভূতি!’
উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হলিউডের চিরসবুজ আইকন ম্যারিলিন মনরোর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত ম্যাগি গিলেনহালের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্লেশ ইমপ্যাক্ট’-এর বিশেষ প্রদর্শনীর মঞ্চে বার্স্টিনের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
এই ছবিতে ম্যারিলিন মনরোর জনপ্রিয়তার দিনগুলোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডাকোটা জনসন, আর মনরোর জীবনের এক অজানা ও অপ্রকাশিত রূপ পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন এলেন বার্স্টিন নিজে।






