বনলতা এক্সপ্রেস
নিষিদ্ধ হওয়ায় কি দর্শক বেড়েছে

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার একটি দৃশ্য
‘সিনেমাটা দেখার পর বনলতা এক্সপ্রেসকে আপনার আর ট্রেন মনে হবে না; মনে হবে জীবন্ত দুঃখের এক বাহন, যার একেকটা বগি একেকটা দুঃখ দিয়ে ভর্তি’। তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখে নিজের ফেসবুকে এভাবেই লিখলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি এমন এক সময় সিনেমাটি নিয়ে ফেসবুকে লিখলেন, যখন কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বাধার মুখে এই সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।
একই দিন কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামেও স্থানীয় তরুণরা পুলিশের বাধায় সিনেমাটির প্রদর্শনী করতে পারেনি। তবে এতকিছুর পরও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখা যেন থেমে নেই। বরং সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
গত সোমবার প্রতিবাদ ও মানবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তিনি সিনেমাটি একদিন আগেই দেখেছেন। তার ভাষ্য, ‘বনলতা এক্সপ্রেস চমৎকার একটি সিনেমা। এটি পরিবারের শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারে। সেই সিনেমা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো?’
পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তর পৈরতলার তরুণদের উদ্যোগে সিনেমাটির একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনীর ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। যেখানে শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বড় পর্দায় সিনেমাটি দেখেছেন।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখা যেন থেমে নেই। বরং সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী জামিনুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি থাকে। বিশেষ করে বইপত্র নিষিদ্ধ হলে সেই বইয়ের বিক্রি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমাটি এখন পাড়া-মহল্লার লোকেরা দেখে নিচ্ছে। লাভটা কী হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কে সারা দেশের মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলো।’
এক সপ্তাহে কত দর্শক দেখেছে?
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি এখন কোথায় কোথায় দেখা যাচ্ছে, জানতে চাইলে নির্মাতা তানিম নূর আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এখন শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে দেখা যাচ্ছে এই সিনেমা।’
তানিম নূর শুধু হইচইয়ের কথা বললেও ফেসবুক পোস্টে কেউ কেউ জানাচ্ছেন সিনেমাটি পাইরেসি হওয়ার খবর। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সিনেমাটি অনেকে দেখছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিভিন্ন পাইরেটেড প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি যে অনেকে দেখছেন, তা জানালেন হইচই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব আর খান। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমাদের টিম অন্তত ২৫/৩০টি পাইরেটেড লিংক বন্ধ করেছে। কেউ যদি পাইরেটেড লিংক থেকে ডাউনলোড করে পেনড্রাইভে শেয়ার করে দেখেন, তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তবে অনলাইন বিভিন্ন লিংক বন্ধ করা হয়েছে।’
গত এক সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কত দর্শক ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখেছেন জানতে চাইলে সাকিব আর খান মন্তব্য করেন, ‘এটা বলা কঠিন। কারণ আমাদের এখান থেকে একজন সাবস্ক্রাইব করে বহুজন একসঙ্গে সিনেমাটি দেখতে পারেন। আবার কেউ হয়তো লিংকে গিয়ে পুরো সিনেমাটি না দেখেও বেরিয়ে যেতে পারেন। ফলে কত দর্শক সিনেমাটি দেখেছেন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় হইচইয়ের সাবস্ক্রাইবার বেড়েছে কি না, তারও পরিসংখ্যান স্পষ্ট করা সম্ভব নয় বলে জানান সাকিব আর খান। তার ভাষ্য, ‘আমাদের নতুন কনটেন্ট যখন মুক্তি পায়, তখন অনেক নতুন সাবস্ক্রাইবার আসেন। তাদের মধ্যে কারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার কারণে এসেছেন, তা নিশ্চিত করা যাবে না। তাছাড়া আমাদের সঙ্গে বিকাশের একটা অফার ক্যাম্পেইনও চলছে। এখন নতুন সাবস্ক্রাইবারদের মধ্যে অনেকে হয়তো বিকাশের ক্যাম্পেইন দেখেও এসেছেন।’




