মাজারের কুমির যাচ্ছে সুন্দরবনে, সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের

খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দীঘিতে থাকা কুমির। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরেই বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দীঘিতে বাস করত কুমিরটি। মাস কয়েক আগে পানিতে কুকুর টেনে নেওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসে নেটিজেনরা। মাজারের দীঘিতে কুমিরের থাকা উচিত কিনা, এ-নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে হয়েছে নানা আলোচনা। গতকাল শিশুকে টেনে নেওয়ার ঘটনার পর, এবার যেন টনক নড়ল সবার। অবশেষে সেই কুমিরকে সুন্দরবনে স্থানান্তর করতে চলেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
রাত ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভা শেষে তিনি জানান, মাজার এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, দীঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুধবার খুলনা থেকে বাগেরহাটে আসবে বিশেষজ্ঞদের একটি দল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কুমিরটি ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করবেন তারা।
সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজারসংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজারসংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় নেওয়া হয়েছে কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত।




