কপিল শর্মার শোয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন কিকু শারদা

সংগৃহীত ছবি
‘দ্য কপিল শর্মা শো’ দুই বাংলা তথা গোটা উপমহাদেশের দর্শকদের কাছে এক তুমুল জনপ্রিয় বিনোদনের নাম। টিভির পর্দায় কপিল শর্মা এবং তার দলের হাস্যকৌতুক দেখে মনে হয় সবকিছুই বুঝি একদম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটছে।
কিন্তু বাস্তবে কি তাই? এই শোর জনপ্রিয় কমেডিয়ান কিকু শারদা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই শো-র পেছনের আসল রহস্য ফাঁস করেছেন। শো-টির কতটা অংশ আগে থেকে ঠিক করা থাকে, আর কতটা স্পট ইম্প্রোভাইজেশন— তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
পডকাস্টার প্রখর গুপ্তার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কিকু শারদা জানিয়েছেন, পুরো শো-টি কিন্তু একদমই স্ক্রিপ্ট ছাড়া হয় না। তিনি বলেছেন, ‘মোটাদাগে বলতে গেলে আমাদের একটি লিখিত স্ক্রিপ্ট থাকে এবং আমরা তা ফলো করি। তবে এর অনুপাতটা ৭০-৩০। অর্থাৎ, ৭০ শতাংশ স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চললেও বাকি ৩০ শতাংশ নির্ভর করে আমাদের উপস্থিত বুদ্ধি বা স্পন্টেনিয়াস কমিকের ওপর। অনেক সময় অতিথি তারকারা আড্ডার মোড় এমন একদিকে ঘুরিয়ে দেন যে তখন স্ক্রিপ্ট ছুড়ে ফেলে আমাদের নিজেদের মতো করে ডায়লগ বলতে হয়।’
কিকু আরও জানিয়েছেন, অতিথিদের আসল রিয়্যাকশন বা প্রতিক্রিয়া ক্যামেরাবন্দি করার জন্য তারা প্রায়শই মূল জোকস এবং পাঞ্চলাইনগুলো তারকাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন। মঞ্চে আচমকা সেই কৌতুক শুনে অতিথিরা যখন অপ্রস্তুত হয়ে হেসে ওঠেন, সেটাই স্ক্রিনে সবচেয়ে খাঁটি দেখায়।
শুটিং সেটে বলিউড ভাইজান সালমান খানের এক অদ্ভুত অভ্যাসের কথা শেয়ার করেন কিকু। তিনি হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘সালমান ভাইকে হাসানো সবচেয়ে কঠিন, আবার সবচেয়ে সহজও! তিনি কখন কোন কথায় হাসবেন, তা আগে থেকে কিচ্ছু বলা যায় না। অনেক সময় আমরা অনেক খাটাখাটনি করে একটা কৌতুক রেডি করি, আর তিনি সেটা শুনে হয়তো সামান্য হাসলেন। আবার কখনো মাঝখান থেকে কেউ হুট করে অদ্ভুত কিছু বলে ফেলল, আর তাতেই ভাইজান ফ্ল্যাট! একবার যদি সালমান ভাই হাসা শুরু করেন, তবে তিনি আর নিজেকে থামাতে পারেন না। হাসতে হাসতে তার চোখ দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই পানি চলে আসে!’
মঞ্চে পারফর্ম করার সময় অনেক সময় এমনও হয় যে কোনো একটি জোকস দর্শকদের ভালো লাগল না বা ফ্লপ হলো। কিকু জানান, তেমন পরিস্থিতিতে শো-কে বাঁচিয়ে নেন স্বয়ং কপিল শর্মা।
কিকুর ভাষায়, ‘কপিল এই কাজের সত্যিকারের ওস্তাদ। কোনো জোকস কাজ না করলে ও সেটে দাঁড়িয়ে থতমত খেয়ে থাকে না। ও সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে বলে ওঠে, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম এই ফালতু জোকসটা চলবে না!’ অথবা অন্য কোনো কো-আর্টিস্টকে নিয়ে এমন ট্রোল করে যে পুরো পরিবেশটাই বদলে যায়। আমরা একসঙ্গে ১৩ বছর ধরে কাজ করছি, এখন আমরা চোখ দেখলেই বুঝতে পারি কার মাথায় কী আইডিয়া ঘুরছে।’
কিকু শারদার এই মন্তব্যের পর নেটপাড়ায় বেশ চর্চা চলছে। তবে স্ক্রিপ্টেড হোক বা না হোক, কপিল শর্মার টিম যে গত এক দশক ধরে দর্শকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





