অন্তঃসত্ত্বা কিয়ারাকে জাপটে ধরার চেষ্টা, ভয়ে নীল হয়ে গেলেন সিদ্ধার্থ, তারপর?

ঘটনাটি ঘটেছিল একটি জনবহুল এলাকায় শুটিং চলাকালীন সময়ে। কিয়ারা আদভানি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তখন। সিদ্ধার্থ এবং কিয়ারাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীরা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও হঠাৎ করেই ঘটে এক বিপত্তি। ভিড় ঠেলে এক যুবক হুট করে কিয়ারার একদম কাছে চলে আসে এবং তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উপস্থিত সবাই চমকে যান।
সিদ্ধার্থ মালহোত্রার দেহরক্ষী জিসান কুরেশি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। জিসান জানান, সাধারণত সিদ্ধার্থ খুব শান্ত মেজাজের মানুষ হলেও সেদিন তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কিয়ারা তখন মা হতে চলেছেন, তাই তার নিরাপত্তার কথা ভেবে সিদ্ধার্থের চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ দেখা যাচ্ছিল। চোখের সামনে স্ত্রীকে এমন বিপদে পড়তে দেখে মুহূর্তের জন্য যেন পাথর হয়ে গিয়েছিলেন বলিউডের এই নায়ক।
দেহরক্ষী জিসান আরও জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল যখন কিয়ারা তার ভ্যানিটি ভ্যান থেকে নামছিলেন। সেসময় স্যুট-বুট পরা এক মার্জিত চেহারার লোক কিয়ারার দিকে ধেয়ে আসে। জিসান প্রথমে ভেবেছিলেন লোকটি হয়তো রিলায়েন্স টিমের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবে, কারণ কিয়ারা ও ইশা আম্বানি খুব ভালো বন্ধু। কিন্তু লোকটির আচরণ ছিল সন্দেহজনক। সে বারবার নিরাপত্তার ব্যারিকেড ভেঙে কিয়ারার শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করছিল।
পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন দেহরক্ষী জিসান ওই ব্যক্তির সঙ্গে প্রচণ্ড তর্কে জড়িয়ে পড়েন। জিসান বুঝতে পারেন, করপোরেট লুক নিয়ে এসে লোকটি আসলে কিয়ারার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আকাশ আম্বানির ম্যানেজার পর্যন্ত গড়ায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের কঠোর পদক্ষেপে ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কিয়ারাকে সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অনুরাগীদের জন্য সুখবর হলো, গত বছরই সিদ্ধার্থ ও কিয়ারার ঘর আলো করে এসেছে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান। তারা আদর করে মেয়ের নাম রেখেছেন ‘সারায়হ’। তবে মেয়ের ছবি এখনই জনসমক্ষে আনতে নারাজ এই তারকা দম্পতি। লাইমলাইট থেকে দূরে রেখে একদম সাধারণ পরিবেশে তারা তাদের রাজকন্যাকে বড় করতে চান। তবে পুরনো সেই ভয়ার্ত স্মৃতি আজও সিদ্ধার্থের মনে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

