আগামীর সময়কে আরিয়ানা গ্র্যান্ডে
আবারও নতুন করে নিজের অভিনয়সত্তার প্রেমে পড়েছি

আরিয়ানা গ্র্যান্ডে -ইনস্টাগ্রাম
আমেরিকান গায়িকা-অভিনেত্রী আরিয়ানা গ্র্যান্ডে ‘উইকেড’ (২০২৪) ও ‘উইকেড: ফর গুড’ (২০২৫) সিনেমায় গ্লিন্ডা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে প্রথমটির জন্য অস্কারে মনোনয়ন পান তিনি। সম্প্রতি সংগীত থেকে বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এ তারকা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
আপনার বয়স যখন ছিল ১০ বছর, তখন মা আপনাকে ব্রডওয়েতে ‘উইকেড’ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কি সিনেমায় গ্লিন্ডা চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কোনোভাবে সহায়তা করেছে আপনাকে?
আরিয়ানা: সত্যি বলতে, কোনো কিছুর ভক্ত হওয়া আর সেই চরিত্রে নিজেকে রূপ দেওয়া— দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অবশ্যই, পুরো শুটিংয়ের প্রতিটি ধাপে ব্রডওয়েতে দেখা ‘উইকেড’-এর সেই জাদুকরী অনুভূতি আমার সঙ্গে রেখেছি। কারণ ২০ বছর ধরে অসংখ্য ভক্ত এই গল্প ভালোবেসেছেন, তাদের সেই অনুভূতিকে সম্মান জানাতে চেয়েছি। অন্য কলাকুশলীদের মতো আমিও নিজস্ব সত্য, নিজস্ব অনুভূতি এবং নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আসতে চেয়েছি গল্পের চরিত্রে। এসবের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া ছিল খুব আনন্দের। আর ভক্তরা যেভাবে আমাদের মন দিয়ে গ্রহণ করেছেন, সেজন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
‘উইকেড’-এর জগৎ সংগীত আর আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আপনি যেমন একজন অসাধারণ কণ্ঠশিল্পী, তেমনি একজন নিবেদিত অভিনেত্রীও। শুটিংয়ের সময় ‘উইকেড: ফর গুড’-এর এমন কোনো গান বা মুহূর্ত ছিল, যা আপনার কাছে বিশেষভাবে ব্যক্তিগত বা অর্থবহ মনে হয়েছে?
আরিয়ানা: অবশ্যই। প্রথমেই বলব ‘থ্যাংক গুডনেস’ গানটির কথা। এটি মূলত আমার অভিনীত চরিত্র গ্লিন্ডার জন্য লেখা হলেও, আমার নিজের ক্যারিয়ারের অনেক মুহূর্তের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাই। এমন সময় এসেছে, যখন নিজের ভেতরে বিভ্রান্তি বা শূন্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্যদের আশা আর আলো দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একই সঙ্গে নিজেকেও সেই আলো খুঁজে নিতে হয়েছে। আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অভিনয়কে আলাদা রাখি, তবু গ্লিন্ডার অনুভূতিগুলো আমাকে ছুঁয়ে গেছে। তাই মনে হয়েছে, গানটি যেন আমার নিজের জীবনের কিছু অনুভূতি থেকেই লেখা। আর ‘ফর গুড’ গানটিও আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ। আমি চাই, যে কেউ যদি কখনো কাউকে গ্লিন্ডা ও এলফাবার মতো গভীরভাবে ভালোবেসে থাকে, তাহলে তারা যেন বিদায়ের আগে অন্তত একবার একে অন্যকে সেই অনুভূতিগুলো বলতে পারে। বাস্তবে অনেকেই সেই সুযোগ পান না। তাই এ গানটি গাওয়া এবং অভিনয় করা আমার জন্য ছিল ভীষণ আবেগঘন।
‘উইকেড’ ও ‘উইকেড: ফর গুড’-এর অন্যতম সুন্দর দিক আপনার ও সিনথিয়া এরিভোর রসায়ন। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আরিয়ানা: এ দুটি চলচ্চিত্রের শুটিং একই সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। সিনথিয়ার সঙ্গে কাজ করা ছিল এক অসাধারণ সৌভাগ্য। একজন সহ-অভিনেত্রী এবং একজন মানুষ হিসেবে তাকে অনেক ভালোবাসি ও সম্মান করি। তিনি সত্যিই অসাধারণ। ‘উইকেড: ফর গুড’ সিনেমায় আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল– দুটি চরিত্রই এক ধরনের গভীর একাকিত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যদিও সেই একাকিত্ব প্রকাশ পাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। এলফাবা একা বনের মধ্যে, তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটি পাশে নেই। অন্যদিকে গ্লিন্ডার চারপাশে অসংখ্য মানুষ। সবাই তাকে বলছে সে ভালো কাজ করছে, সবাই তাকে ভালোবাসে। এমনকি কিছু সময়ের জন্য সে নিজেও তা বিশ্বাস করে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেও ভীষণ একা।
‘উইকেড’ প্রকল্পে তাইওয়ানিজ ও চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান পরিচালক জন এম চুর সঙ্গে কাজ করেছেন। সংগীত ও আবেগের মাধ্যমে গল্প বলার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি তার পরিচালনাকে বিশেষ করে তোলে বলে মনে করেন?
আরিয়ানা: আমার সত্যিই মনে হয়, এ চলচ্চিত্র দুটি পরিচালনা করা যেন তার নিয়তিই ছিল। মানুষের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বোঝার এক অসাধারণ ক্ষমতা আছে তার। তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, আন্তরিক ও চিন্তাশীল একজন মানুষ। অসাধারণ গল্পকার এবং নিখুঁত পরিচালক তো বটেই, কিন্তু তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হৃদয়। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যে, তিনি সিক্যুয়েলে গ্লিন্ডা চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করার সুযোগ দিয়েছেন আমাকে। আমার মনে হয়, এ চরিত্রটির প্রাপ্য ছিল সেটি। প্রথম ‘উইকেড’-এর শেষদিকে গ্লিন্ডাকে একরকম খারাপ মানুষ হিসেবে দেখা হয়। আর এলফাবাকে পুরো পৃথিবী ‘উইকেড’ বা দুষ্ট বলে চিহ্নিত করে। অথচ বাস্তবে তারা দুজনই শুধু মানুষ; যারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা, ভালোবাসা, ত্যাগ, কষ্ট ও ট্রমা নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। জন সবসময় একটি কথা বলতেন, ‘যখন সত্যিটা জেনে যাবে, তখন কী করবে?’ সিক্যুয়েলে আমরা সেই প্রশ্নের পরিণতি দেখি। আমরা গ্লিন্ডাকে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে দেখি, আবার সবচেয়ে নির্মল অবস্থায়ও দেখি। এটা সম্ভব হয়েছে জনের নির্মাণশৈলীর সুবাদে।
আজও আপনার দৈনন্দিন জীবনে গ্লিন্ডার উপস্থিতি কতটা অনুভব করেন?
আরিয়ানা: জানি না কতটা। তবে আমার মনে হয়, গ্লিন্ডা সবসময়ই আমার হৃদয়ে থাকবে। বিশ্বাস করতে চাই, তার কিছুটা জাদু সারা জীবন নিজের সঙ্গে বহন করব। তবে এখন এ কাজ নিয়ে আমার মনে একধরনের শান্তি আছে। সে সবসময়ই আমার হৃদয়ের একটি অংশ হয়ে থাকবে।
শেষ প্রশ্ন। আপনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘এটারনাল সানশাইন’ শেষে দীর্ঘদিন আর এমন সংগীত ট্যুর করবেন না। ‘উইকেড’-এর সাফল্য কি আপনাকে গান থেকে অভিনয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে?
আরিয়ানা: আমি মূলত নতুন করে আবারও নিজের অভিনয়সত্তার প্রেমে পড়েছি। অভিনয়কে ভীষণ মিস করছিলাম। প্রায় ১২ বছর ধরে আমার ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় কেটেছে এমনভাবে, যখন সেই অংশ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিলাম যেটি সবসময় ভাবত, একদিন আমি ব্রডওয়ের একজন অভিনেত্রী হব। কখনোই ভাবিনি একজন পপতারকা হয়ে উঠব। জানতাম গান ভালোবাসি। আর একজন পপশিল্পী হিসেবে যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, সেজন্য আমি দারুণ কৃতজ্ঞ। এ নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলছি না। সেই জীবনকে ভালোবাসি, মূল্য দিই। কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে অনুভব করছি, সৃজনশীলভাবে অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি। এখন জানতে চাই আর কীভাবে নিজেকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি, কীভাবে একজন শিল্পী হিসেবে আরও বিকশিত হতে পারি।
ধন্যবাদ। অসাধারণ অভিনয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।
আরিয়ানা: ধন্যবাদ, জনি। কথা বলে খুব ভালো লাগল।
আরিয়ানাকে নিয়ে দুছত্র
‘এটারনাল সানশাইন’ শীর্ষক মিউজিক ট্যুর আগামী ১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি নেবেন আমেরিকান গায়িকা-অভিনেত্রী আরিয়ানা গ্র্যান্ডে। এর অংশ হিসেবে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা দেওয়ার ইচ্ছে নেই তার। এ কারণে তিনি এখন আলোচনায়। তার ক্যারিয়ার শুরু হয় কিশোরী বয়সে ব্রডওয়ের মিউজিক্যাল ‘থার্টিন’ (২০০৮)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর তিনি নিকেলোডিয়নের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ভিক্টোরিয়াস’ (২০১০-১৩)-এ ক্যাট ভ্যালেন্টাইন চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। তার ঝুলিতে আছে আটটি একক অ্যালবাম, তিনটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, ৪০টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এবং ১৩টি এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। তিনি ইনস্টাগ্রামে বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বাধিক অনুসরণকারী (ফলোড) ব্যক্তি।







