সাংবাদিকদের ওপর হামলা
সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে রাবির হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি
- প্রশাসনের কর্মসূচি বয়কট করেছে ক্যাম্পাসে কর্মরত তিন সাংবাদিক সংগঠন

সোমবার মধ্যরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচির পর গতকাল সোমবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনা শেষে রাত দেড়টার দিকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য উপাচার্য জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এরপর সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপাচার্য বললেন, ‘আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।’
রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলায় শনাক্ত ছাত্রদলের ৭ নেতাকর্মী জড়িত নানা অপকর্মে
০৫ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রশাসন।
আলোচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে হামলার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হবে। পরে সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের হামলায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার করার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান বললেন, ‘আমাদের দাবির একটি অংশ প্রশাসন মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে বাকি দাবিগুলো মেনে নেওয়ার রোডম্যাপ তারা দিয়েছে। প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করলে আমরা সহযোগিতা করব। তবে তাদের কোনো গাফিলতি পেলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
প্রশাসনের সব কর্মসূচি বয়কট
প্রশাসনের দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এ বয়কট কর্মসূচি চলবে। পাশাপাশি প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বললেন, ‘আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কিছু সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে আমাদের বেশ কিছু দাবি মেনে নিতে প্রশাসন সময় চেয়েছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো সংবাদ কভার করব না।’
রবিবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।





