অপেশাদার কাজে জর্জরিত প্রাথমিক শিক্ষকরা, মান কমছে শিক্ষার

সংগৃহীত ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষককে পাঠদানের পাশাপাশি অন্তত ৩৭ ধরনের অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল কাজে যুক্ত থাকতে হচ্ছে। এসব অতিরিক্ত দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে প্রতিবছর সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৭১০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই ব্যয়ের সরাসরি সুফল শিক্ষার্থীদের শিখনে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বরং বাড়তি কাজের চাপের কারণে শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ফল উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) পরিচালিত এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গড়ে মাসে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেশাদার কাজে ব্যয় করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরকারি জরিপ কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয়। তুলনামূলকভাবে বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শনে কম সময় দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজের চাপ শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষকদের ৯০ শতাংশ জানিয়েছেন, অপেশাদার কাজ শেষে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর তারা পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ৮৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারছে না এবং পরীক্ষার ফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জরিপে অংশ নেওয়া যেসব শিক্ষকের ক্ষেত্রে বার্নআউট নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে (২১৯ জন), তাদের মধ্যে ৯২ দশমিক ৬৯ শতাংশ ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এ ভুগছেন, যা চরম কর্মক্লান্তির ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় নির্দেশ করে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের তুলনায় বেশি সময় নন-প্রফেশনাল কাজে ব্যয় করেন। প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সময় গড়ে মাসে প্রায় ২৭ দশমিক ৭৪ ঘণ্টা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, এ গবেষণার তথ্য নীতিনির্ধারকদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং ফরিদ আহমদ।



